নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডের ২৪টি কারখানার সব কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে একজন শ্রমিক নিহতের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে বাপজা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোর কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দেয়। বাপজার নির্বাহী পরিচালক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার পরিস্থিতি দেখে বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) কারখানাগুলো খুলবে কিনা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে শ্রমিকরা কারখানায় ঢুকলে গেলে বাপজার নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দেয়। বাধা পেয়ে ইপিজেড এলাকার প্রধান ফটক ও রাস্তার ওপর অবরোধ কর্মসূচি পালন করে শ্রমিকরা। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যৌথ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ করেন। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন হাবিব এবং আহত হন অন্তত ছয়জন শ্রমিক।
শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন, যথাযথ নোটিশ ছাড়াই ছাঁটাই, কর্মপরিবেশের নানা অনিয়ম, নারী শ্রমিকদের সঙ্গে অসভ্য আচরণ, বেতন বৃদ্ধি হলেই হঠাৎ ছাঁটাই, নামাজে বাধা, এক শুক্রবার কাজ করালে পরের শুক্রবার ছুটি এবং পাঞ্চ মেশিনের ভিত্তিতে বেতন নির্ধারণসহ মোট ২৩ দফা দাবিতে তারা আন্দোলনে নামেন। গত তিন দিন ধরে চলা এ আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নেয়। বিদেশি বিনিয়োগের নামে অনেক প্রতিষ্ঠান শ্রম আইন মানে না। ফলে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হন তারা।
ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সড়কের দুই পাশে অবস্থান নেয় এবং প্রায় চার ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। দুপুর ১টার দিকে পরিস্থিতি শান্ত করতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কারখানার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে শ্রমিক নেতা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত না থাকায় কোনো সমাধান হয়নি।
নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, ‘শ্রমিকদের ২৩ দফা দাবির মধ্যে কিছু যৌক্তিক দাবি আছে। এগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। অন্যান্য কারখানা চালু রাখা হবে কি না—সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নিহত ও আহত শ্রমিকদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে।
