নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির নেতৃত্বের দৌড়ে সামনে থাকা দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট আবুল কালামের রাজনৈতিক সচিব আবুল কাউসার আশা এখন স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের মাথাব্যথার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে মহানগর বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চরম উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে।
দলীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক মাঠে আবুল কাউসার আশার ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও শক্তিশালী অবস্থান দেখে তার পথ আটকাতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে দলের একটি প্রভাবশালী অংশ। আশার রাজনৈতিক অগ্রযাত্রা রুখতে কৌশল হিসেবে তারই নিজ চাচা—বন্দর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আতাউর রহমান মুকুলকে সামনে দাঁড় করানো হয়েছে। চাচা-ভাতিজার এই সম্ভাব্য মুখোমুখি অবস্থান এখন এক চরম মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে, যা স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলীয় কর্মীদের মতে, মূলত নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি গঠন এবং আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরেই আবুল কাউসার আশাকে কোণঠাসা করার এই রাজনৈতিক ছক কষা হয়েছে। মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতারা সরাসরি প্রকাশ্যে আশার বিরোধিতা না করে আতাউর রহমান মুকুলকে ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করছেন। তবে আশার সমর্থকরা দাবি করছেন, কৃত্রিম দলীয় কোন্দল তৈরি করে তার উদীয়মান রাজনৈতিক অবস্থানকে বাধাগ্রস্ত করতেই প্রতিপক্ষ অংশটি পারিবারিক সম্পর্ককে রাজনীতির মাঠে টেনে এনে ধোঁয়াশা তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
চাচা-ভাতিজাকে ঘিরে শুরু হওয়া এ ধরনের রাজনৈতিক চালবাজি দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র বিভ্রান্তি ও অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে। সব মিলিয়ে মহানগর বিএনপি ও বন্দর থানা এলাকার সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
