বাংলা ভাষা আন্দোলন (রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন) ছিল বাঙালির ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক অধিকারের এক ঐতিহাসিক সংগ্রাম, যা ১৯৪৭ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত তৎকালীন পাকিস্তানের পূর্ববঙ্গে সংঘটিত হয়। এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল মাতৃভাষা বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত বিভাজনের মাধ্যমে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হয়। এর দুটি অংশ ছিল—পূর্ববঙ্গ (পরে পূর্ব পাকিস্তান, বর্তমানে বাংলাদেশ) এবং পশ্চিম পাকিস্তান। ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন এই দুই অঞ্চলের ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রায় ছিল মৌলিক পার্থক্য। পূর্ববঙ্গের অধিকাংশ জনগণই ছিল বাংলাভাষী।
১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেন যে উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। এই ঘোষণায় পূর্ববঙ্গের জনগণের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়, কারণ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষই ছিল বাংলাভাষী।
রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ছাত্রসমাজ, রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষ প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিল। আন্দোলন দমনের জন্য সরকার ১৪৪ ধারা জারি করে ঢাকা শহরে সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীরা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করলে পুলিশ গুলি চালায়। এতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ আরও অনেকে শহীদ হন। এই আত্মত্যাগ আন্দোলনকে চূড়ান্ত রূপ দেয় এবং সারা পূর্ববঙ্গে তীব্র গণআন্দোলনের সূচনা হয়।
অবশেষে ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলা উর্দুর সঙ্গে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ভাষা আন্দোলন বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনাকে জাগ্রত করে এবং পরবর্তীকালে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পেছনে গভীর প্রভাব ফেলে।
২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পায়, যা ১৯৯৯ সালে UNESCO ঘোষণা করে।
আমার বায়ের রক্ত রাঙ্গানো ২১শে ফেব্রুয়ারী আমি কি ভুলিতে পারি ভাষা শহীদের শরনে পরিস্কারের কাজ চলছে জাতীয়
ছবি – এস কে মামুন
রির্পোট – সুমন শেখ
