৩৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও দুর্গাপুরের সাংবাদিক আলিফ হত্যায় গ্রেফতার নেই কেউ

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফর জামান ওরফে আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের ৩৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এ ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টা পর শুক্রবার রাতে নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী অনিন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে সাত থেকে আটজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে দুর্গাপুর থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

এদিকে দুই সন্তানসহ নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নিহতের স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। দ্রুত আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে দুর্গাপুরে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন সাংবাদিকরা। এ সময় তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেফতারের আলটিমেটাম দেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ অক্টোবর রাতে স্ত্রী অনিন্দিতা সাংমার সঙ্গে বের হওয়ার সময় আলিফকে এক ঝলক দেখেছিলেন তিনি। পরে বাড়ির সামনের দোকানদার রবিন রাংসা এসে তাকে জানান, তার স্বামীকে গুলি করা হয়েছে। খবর পেয়ে দৌড়ে গিয়ে আলিফকে মাথা ও বুকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান তিনি।

অনিন্দিতা বলেন, এর আগেও দুর্বৃত্তরা তার স্বামীকে কুপিয়ে জখম করেছিল। এখন দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেফতার এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।

শুক্রবার দুপুরে দুর্গাপুর প্রেসক্লাব মোড়ে মানববন্ধনের আয়োজন করেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। তারা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানান।

পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আলিফ ফকির ফেসবুকে ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি পেজ পরিচালনা করতেন। সেখানে চোরাচালান, সীমান্ত অপরাধ এবং সম্প্রতি এক রোহিঙ্গা ব্যক্তির বাড়ি নির্মাণ নিয়ে বিভিন্ন পোস্ট দিতেন তিনি। এ ছাড়া ‘রিভার্স ভয়েজ’ নামের আরেকটি পেজেও লেখালেখি করতেন। তবে পোস্টগুলোতে বিস্তারিত তথ্য না থাকায় কোন ঘটনার জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা, হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক শ্রদ্ধানন্দ জানিয়েছে, হামলাকারীরা সামনে থেকে কাছাকাছি দূরত্বে গুলি চালিয়ে থাকতে পারে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আলিফের বুকে ও মাথায় গুলির আঘাত ছিল। ময়নাতদন্তের তথ্য অনুযায়ী, ছয়টি গুলির মধ্যে পাঁচটি তাঁর মাথা ও শরীর ভেদ করে যায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আলিফ ফকিরের বাড়ি কলমাকান্দা উপজেলার শুনই গ্রামে। তবে দুর্গাপুরে দ্বিতীয় বিয়ে করার পর তিনি শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। তিনি সম্প্রতি আইপি টেলিভিশন রূপালি বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছিলেন। এর আগে সাবেক সেনাসদস্য হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে র‍্যাব, বিজিবি ও পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং সীমান্ত এলাকায় কাজ করতেন। বিগত সরকারের সময় তিনি পুলিশের হাতে আটকও হয়েছিলেন।

মৃত্যুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া কয়েকটি পোস্টেও বিভিন্ন অপরাধ ও অপরাধচক্র নিয়ে লেখালেখি করেছিলেন আলিফ। একটি পোস্টে অপরাধজগতের ‘গডফাদার’ নিয়ে লেখার ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন তিনি। এসব পোস্টের সূত্র ধরে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন করা সম্ভব বলে মনে করছেন অনেকে।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত বলে মনে হওয়ায় তদন্তে সময় লাগছে। পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও এসবিআরসহ বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। নিহতের স্ত্রীর নিরাপত্তায় পুলিশের টহল রয়েছে এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে বলেও জানান ওসি।

 

 

এনএএন টিভি

Share this news as a Photo Card