নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ৯ বছর আজ। এই ৯ বছরেও বিচারের রায় কার্যকর হয়নি।
নিহতের পরিবারগুলো শত কষ্টে থাকলেও দ্রুত বিচারের রায় কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে।
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাত খুনের ঘটনা ঘটেছিল। সেদিনের কথা স্মরণ করে এখনো ডুকরে কেঁদে ওঠেন স্বজনরা।
তাজুল ইসলাম। সংসারে তিন ভাইয়ের মধ্যে বড় সন্তান। প্যানেল মেয়র নজরুলের খুব ভক্ত ছিল সে। ছিল টেক্সটাইল ডিপ্লোমার ছাত্র।
অনেক আশা ও স্বপ্ন ছিল এই সন্তানকে নিয়ে আমাদের। কিন্তু মাত্র ২৪ বছর বয়সেই মেরে ফেলা হয় তাজুলকে।
দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে একনাগাড়ে কথাগুলো বলছিলেন নিহত তাজুলের বাবা আবুল খায়ের। কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে বলেন, কী দোষ ছিল আমার ছেলের।
কী অপরাধ করেছিল সে, যে এভাবে মেরে ফেলতে হবে। তিনি বলেন, ৯ বছর হয়ে গেল, কেউ আমাদের খোঁজটি পর্যন্ত নিতে এলো না। কষ্টে আছি নাকি সুখে আছি, মরে আছি নাকি বেঁচে আছি।
নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি কালের কণ্ঠকে বলেন, দেখতে দেখতে ৯ বছর হয়ে গেল।
কিন্তু ওকে কিছুতেই ভুলতে পারছি না। ওর সঙ্গে কত স্মৃতি। সেটা কি ভোলা যায়। অনেক সুখের সংসার ছিল আমার।
স্বামী-সন্তান নিয়ে আল্লাহর রহমতে অনেক সুখে ছিলাম আমি। কিন্তু সেই সুখ সইল না। আমার নজরুলকে ওরা মেরে ফেলল।
শুধু আমার নজরুলকেই নয়, নরপশুরা জলজ্যান্ত আরো ছয়জনকে নৃশংসভাবে খুন করল। এতগুলো বছর পার হয়ে গেল, বিচার কার্যক্রম এখনো থমকে আছে।
একই আক্ষেপ নিহত যুবলীগ নেতা স্বপনের গাড়িচালক জাহাঙ্গীরের স্ত্রী নূপুরের কণ্ঠেও।
তিনি বলেন, ‘৯ বছর পেরিয়ে গেল অথচ স্বামী হত্যার রায় কার্যকর দেখতে পারলাম না। আমি বেঁচে আছি না মরে গেছি সেটারও কেউ খোঁজ নেয় না।’
সাত খুন নারায়ণগঞ্জের ইতিহাস তো বটেই, দেশের ইতিহাসেও ন্যক্কারজনক ঘটনার একটি।
খুনের অভিযোগ প্রমাণসহ মারাত্মক প্রশ্নবিদ্ধ হয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এলিট ফোর্স র্যাব।
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল অপহরণের পর সাতজনকে খুন ও শীতলক্ষ্যায় বস্তায় ভরে লাশ ভাসিয়ে দেওয়া, ৩০ এপ্রিল একে একে লাশ ভেসে ওঠার সেই লোমহর্ষক ঘটনা আজও ভুলতে পারেনি নিহতের স্বজনরা।
