খাগড়াছড়িতে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: উত্তপ্ত খাগড়াছড়ি

খাগড়াছড়িতে আদিবাসী ত্রিপুরা কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সাধারন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা সদরের সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে আদালত সড়ক, ভাঙ্গাব্রীজ ঘুরে শাপলা চত্বর মুক্ত মঞ্চে গিয়ে সমাবেশে করে।

সমাবেশে ওয়াপাইং মারমার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাধারন- শিক্ষার্থী উক্যনু মারমা, কবিতা চাকমা, নিশি ত্রিপুরা, দেবাশীষ চাকমা, তুষাণ চাকমা ও উজ্জ্বল মারমা।

এসময় পাহাড়ি সম্প্রদায়ের উপর এমন নিন্দনীয় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তারা আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। নয়তো পাহাড়ে আগুণ জ্বলবে বলেও হুশিয়ারি দেন তারা।

এর আগেও খাগড়াছড়িতে ধর্ষণের অভিযোগে সংঘাত, অপ্রীতিকর, দ্বন্দ্বের রেশ কাটতে না কাটতেই এ ধরনের ঘটনায় আবারও অশনি সংকেত দেখা দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাঙালীরা।

ধর্ষণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ খাগড়াছড়ি জেলার নেতাকর্মীরাও।

এদিকে আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে খাগড়াছড়ি জেলা ‘বিএনপি’।

খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ওয়াদুদ ভূইয়ার নির্দেশে আজ দুপুরে খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালে ভুক্তভোগীর পরিবারের সাথে দেখা করেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক এমএন আবছার। এসময় তিনি ভুক্তভোগীর চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দিয়ে পরিবারের পাশে থাকার কথা জানান।

‘ধর্ষকরা কোন দলের নয়, বিএনপির সাথে কোন সম্পৃক্ততা নেই’ উল্লেখ করে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান এমএন আবছার।

কিছু কিছু দল সুযোগ বুঝে বিএনপির উপর অপবাদ লেপনে ব্যস্ত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ সময় খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ক্ষেত্র মোহন রোওয়াজা, যুগ্ম সম্পাদক অনিমেষ চাকমা রিংকু, মোশাররফ হোসেন, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসেম ভূঁইয়া, বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ সভাপতি কমল বিকাশ ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আনিসুল আলম আনিকসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, খাগড়াছড়ি ভাইবোনছড়ার লতিবান এলাকার এক ত্রিপুরা কিশোরী সম্প্রতি রথযাত্রা উৎসব দেখতে মেলায় যায়। সেখান থেকে ফেরার সময় গাড়ি না পাওয়ায় ওই এলাকাতেই কাকার বাড়ি রাত্রিযাপন করেন। সেখানেই রাতের অন্ধকারে আসামিরা ওই বাড়িতে ঢুকে জোরপূর্বক ওই কিশোরীকে পালাক্রমে সংঘবদ্ধ ভাবে ধর্ষণ করে।

এ ঘটনার পর ঐ কিশোরী বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে বলেও জানান গেছে। ভুক্তভোগী ওই কিশোরী বর্তমানে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বুধবার (১৬ জুলাই) রাতে ছয়জনকে আসামি করে খাগড়াছড়ি সদর থানায় মামলা করেন। এরপর ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন- খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ভাইবোনছড়া ইউনিয়নের আরমান হোসেন (৩২), ইমন হোসেন (২৫), এনায়েত হোসেন (৩৫), সাদ্দাম হোসেন (৩২)। তবে অভিযুক্ত মো. সোহেল ইসলাম (২৩) ও মো. মুনির ইসলাম (২৯) এখনও পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলমান বলেও জানা গেছে

এনএএন টিভি / বিপ্লব তালুকদার