নয়ামাটি হোসিয়ারী এলাকা রেডজোন

এ বছরও শহরের অগ্নিঝুঁকিপূর্ণ ভবন পরিদর্শনের কাজ চলমান । তবে অগ্নিঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও মার্কেটে অভিযানের ফলাফল এখনো জানা যায়নি।  ফায়ার সার্ভিসের দৃষ্টিতে শহরের নয়ামাটি এলাকা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ।

অধিকাংশ ভবনের ফায়ার লাইসেন্স নেই। ব্যবসায়ীক এই এলাকার ভবন মালিকরা খুবই বেপরোয়া।

একটি ভবন আরেকটির গা ঘেঁষাখথেঁষি করে গড়ে উঠেছে। মার্কেটে নেই পানির
রিজার্ভার । নেই বিকল্প সিঁড়ি। যে সিঁড়ি আছে তাও অত্যন্ত চিকন।

সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে নয়ামাটি হোসিয়ারী এলাকার সড়ক ও অত্যন্ত সরু ৷

ভয়াবহ অগ্নিঝুঁকিতে থাকা নয়ামাটি এলাকার ব্যবসায়ীরা এ ব্যাপারে উদাসীন।

বড় ধরনের কোন দুর্ঘটনা না ঘটলে সচরাচর কেহ সতর্ক হয়না।

সূত্রমতে, নয়ামাটি হোসিয়ারী এলাকা অগ্নিকাণ্ডের রেডজোন। এখানে কোন ধরনের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই।

অগ্নিঝুঁকিতে ভবনগুলো পরিদর্শন চলছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেঙ্গের পরিদর্শকরা পরিদর্শন শুরু করেছেন।

যে সকল ভবনের ফায়ার লাইসেন্স নেই সে সকল ভবন মালিকদের জেল জরিমানা হওয়ার কথা ।

ফায়ার লাইসেন্স না থাকলে এবং ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে ভবন মালিককে সর্বোচ্চ ৬ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হতে পারে।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অচিরেই নয়ামাটি এলাকায় অভিযান চালাবে ।

বার বার মার্কেট এর ব্যবসায়ী ও ভবন মালিকদের সতর্ক করা হলেও তারা সেসবে কর্ণপাত করেন না।

দিনে দিনে এই এলাকা আরও বেশিমাত্রায় ঘিষ্জি হয়ে উঠছে। এক সময় তিন-চারতলা বিশিষ্ট বিল্ডিং ছিল ।

বর্তমানে ৭ তলা থেকে ৮ তলা পর্যন্তভবনের অভাব নেই।

ব্যবসায়ীরা জানান, নয়ামাটি এলাকায় যুগের পর যুগ ধরে ফায়ার সার্ভিস সেবা দিয়েছে বিকল্প পথে।

এক করিম মার্কেট পর্যন্ত মিনার গার্মেন্টস এর গলি পর্যন্ত ফায়ারের গাড়ি ঢোকে । সেখান থেকে পাইপ টেনে নিয়ে যাওয়া হয় ভেতরে ঘটনাস্থলে ।

আরেকটি পথ হচ্ছে লয়েল ট্যাঙ্করোড দিয়ে গাড়ি ঢুকিয়ে নয়ামাটি আখড়ার পেছনে নেয়া হয়।

সেখান থেকে পাইপ টেনে নিতে হয়। এভাবেই চলছে অগ্নিনির্বাপণের কাজ ।

নয়ামটির ভেতরে অধিকাংশ ভবনেই পানির রিজার্ভার নেই। এই এলাকায় নেই কোন জলাধারও।

সত্তরের দশকেও থানা পুকুরপাড় নামে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার সামনে একটি বড় পুকুর ছিল। আশির দশকেও পুকুরের অস্তিত্ব ছিল।

নব্বইয়ের দশকে এসে পুকুর ভরাট করে ফেলা হয়। নয়ামাটিতে কোন অগ্নিকাণ্ড ঘটলে এখনো ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ভেতরে ঢুকতে পারে না।

ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি নিয়ে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হবে।

সূত্রমতে, নয়ামাটি বিখ্যাত হোসিয়ারীর জন্য । পাশাপাশি এখানেও সুতা ও কেমিক্যালের ব্যবসা আছে।

সেই হিসেবে টানবাজার ও নয়ামাটি এলাকা দু’টিকে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস।

২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি শহরের টানবাজার এলাকায় আবাসিক ভবন থেকে কেমিক্যালের গোডাউন সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছিল প্রশাসন ।

এ জন্য ১০ দিন সময় চেয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা । কিন্তু প্রায় তিন বছর পার হলেও সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়নি।

শহরের নয়ামাটি বা উকিলপাড়া ও দ্বিগুবাবুর বাজারে আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসের রিজার্ভ গাড়ির পানি শেষ হতেই ছুটতে হয় শীতলক্ষ্যা নদীতে।

নয়ামাটি বা ডিআইটি এলাকায় আগুন নেভাতে পানি শেষ হলে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ছুটে যায় ফজর আলী টাওয়ারে ।

ফজর আলী টাওয়ারে পানির বড় রিজার্ভার আছে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলেন, এখন শহরে পানির উৎস হয়েছে শেখ রাসেল পার্ক ও বাবুরাইল লেক প্রকল্পটি ।

তবে এটা কোন সমাধান নয়। শহর এলাকার জলাধারের বিকল্প হতে পারে পিলার
হাইড্রেন্ট ।