চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় গোমস্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন মন্ডলের জামাইকে আটক করা হয়েছে। এসময় ওই নারী ও যুবককে হাতেনাতে আটক করা হয়। রবিবার (০৩ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার দিকে গোমস্তাপুর উপজেলার রাজারামপুর গ্রামে প্রবাসী বাবুল হকের ঘরে তাকে আটক করা হয়।
আটককৃত যুবক সাকিব আলী (৩০) আ.লীগ নেতা জামাল মন্ডলের জামাই ও একই এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে এবং আতাউর রহমানের মেয়ে আক্তারা খাতুন (৩২)।
দুই সন্তানের জনক ও আ.লীগ নেতা জামাল মন্ডলের জামাই সাকিব ও তিন সন্তনের জননী প্রবাসীর স্ত্রী আক্তারাকে হাতেনাতে আটক করে প্রবাস থেকে কিছুদিন আগে দেশে আসা বাবুল হক। পরে স্থানীয় এসে তাদেরকে মারধর করে। এসময় আটককৃত সাকিবের চাচা আলিম মাস্টার তাকে পরে থানায় বসে সমাধান করে দিব বলে ছুটিয়ে নিয়ে যায়।

জানা যায়, বিষয়টি সুরাহার জন্য প্রবাসী বাবুল ও তার স্ত্রী আক্তারা খাতুন এবং উভয়ের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে থানায় বসা হলেও কোন সুরাহা হয়নি। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, পরকীয়া প্রেমিকের সাথে আটককৃত আক্তারা পুলিশের সামনেই নিজের ছোট ও তৃতীয় সন্তানটি সাকিবের বলে স্বীকার করেন। এসময় আক্তারা বলেন, ৫-৬ বছর ধরে দুজনের সম্পর্ক চলে আসছিল। এরই জের ধরে গভীর রাতে স্বামী ঘুমিয়ে যাওয়ার পর পরকীয়া প্রমিককে বাসায় ডেকেছিল সাকিবকে।
ভুক্তভোগী পরিবারের একাধিক সদস্য, আটককৃত নারী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মধ্যরাতের দিকে স্বামী ঘুমিয়ে যাওয়ার পর পরকীয়া প্রেমিককে বাসায় ডেকে রান্নাঘরে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয় আক্তারা খাতুন। এসময় টের পেয়ে উঠে গিয়ে স্বামী প্রবাসী বাবুল তাদেরকে হাতেনাতে ধরে স্থানীয় বাসিন্দাদের ডাক দেয়। এমনকি রবিবার রাতে থানায় আক্তারা খাতুনের সাথে সম্পর্ক বিছিন্ন করার কথা জানান তিনি।
জানা যায়, পুলিশের নিকট বিদেশ থেকে পাঠানো আনুমানিক ১০ লাখ টাকা স্ত্রীর কাছে রয়েছে বলে অভিযোগ করেন প্রবাসী বাবুল হক। টাকার পরিমাণ নিশ্চিত হওয়ার পর সালিশের মাধ্যমে ঘটনার সমাধান করা হবে পুলিশ পাঠিয়েছেন বলে জানান উভয় পারিবারের সদস্যরা।

এদিক, ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও গোমস্তাপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন জামাল মন্ডলের জামাই সাকিব আলী। এনিয়ে কথা বলতে তার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াদুদ আলম জানান, শনিবার রাতে একটি আপত্তিকর ঘটনা ঘটেছে। পরদিন সন্ধ্যায় প্রবাসী ব্যক্তি ও তার স্ত্রী থানায় এসে সমাধান চাই। কিন্তু প্রবাসী ডিভোর্স দিবে ও ওই নারী সংসার করতে চাই। এমন অবস্থায় তাদেরকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে, এনিয়ে থানার কোন করনীয় নেয়। এটি তারা নিজেরাই সীধান্ত নিয়ে করতে পারে। এনিয়ে থানায় কোন লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এনএএন টিভি / মোঃ সিফাত রানা
