সত্য উদ্ঘাটন, অন্যায়ের মুখোশ উন্মোচন এবং অপরাধের নেপথ্যের রহস্য অনুসন্ধানে ব্যতিক্রমী পদ্ধতি অবলম্বন করতেন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির। কখনো মুচি, কখনো ফেরিওয়ালা, আবার কখনো পাগলের বেশে সীমান্ত এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন তিনি। তাঁর লক্ষ্য ছিল ছদ্মবেশে অপরাধের তথ্য সংগ্রহ করা এবং সমাজের অনিয়ম ও অন্যায়ের চিত্র মানুষের সামনে তুলে ধরা।
কিন্তু তাঁর সেই সাহসী অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পথ থেমে গেছে নির্মম হত্যাকাণ্ডে। আলিফ ফকিরের অসংখ্য ছবি আজ তাঁর সাহস, ত্যাগ এবং সত্য প্রকাশের প্রচেষ্টার স্মৃতি বহন করছে।
সাংবাদিক আলিফ ফকিরের জীবন ও কর্মকে স্মরণ করে অনেকে তাঁকে সত্যের পথে অবিচল এক সাহসী মানুষ হিসেবে দেখছেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং মানুষের জন্য কাজ করার যে প্রত্যয় তিনি ধারণ করতেন, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষী ও সহকর্মীদের।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অমর পঙ্ক্তি— “বল বীর—বল উন্নত মম শির!”—যেন তাঁর সাহসী জীবনসংগ্রামের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হচ্ছে।
শহীদ সাংবাদিক আলিফ ফকিরের স্মৃতি বেঁচে থাকুক সত্য, সাহস ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায়।
