এমপিদের বাতিল গাড়ি এখন এনবিআরের ‘গলার কাঁটা’

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সাবেক সংসদ-সদস্যদের আনা গাড়িগুলো নিলামে তোলে চট্টগ্রাম কাস্টমস। ২৪টি গাড়ির মধ্যে ১০টির বিড পড়েনি। বাকি ১৪টি গাড়ির যে বিডমূল্য পড়ে, তা সংরক্ষিত মূল্যের সর্বনিম্ন দশমিক ১০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৩২ শতাংশ। গাড়িভেদে দাম ওঠে সর্বনিম্ন ১ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৩ কোটি ১০ লাখ টাকা। গাজীপুর-৫ আসনের সাবেক সংসদ-সদস্য আখতারউজ্জামানের আনা ল্যান্ড ক্রুজার জেডএক্স মডেলের গাড়িটি সংরক্ষিত মূল্য ৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা নির্ধারণ করে কাস্টমস। নিলামে এ গাড়ির দাম ওঠে মাত্র এক লাখ টাকা।

এ অবস্থায় গাড়িগুলো দ্বিতীয় দফা নিলামে না তুলে রাজস্ব ঝুঁকি ও আইনি বাধ্যবাধকতার কথা জানিয়ে ১১ মার্চ এনবিআরকে চিঠি দিয়ে দিকনির্দেশনা চায় চট্টগ্রাম কাস্টমস। চিঠিতে বলা হয়, প্রথম দফায় পণ্যের বিডমূল্যের ন্যূনতম ৬০ শতাংশ মূল্য পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় দ্বিতীয় দফায় নিলাম করার বিধান রয়েছে। দ্বিতীয় দফা নিলামে প্রথম দফার তুলনায় কম দাম পাওয়া গেলেও দুই নিলামের সর্বোচ্চ মূল্য হাঁকানো বিডারের অনুকূলে গাড়ি খালাসের আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে। যাতে রাজস্ব ঝুঁকি তৈরির শঙ্কা তৈরি হবে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার এনবিআরে সভা হয়। সেখানে জানানো হয়, গাড়ির বিডমূল্য অতি নগণ্য এবং কিছু গাড়ির বিপরীতে বিড না পড়ায় গাড়িগুলো বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে সংরক্ষিত আছে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় গাড়িগুলো নষ্ট হয়ে সরকারের রাজস্বহানি এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ের ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। গাড়িগুলো নিষ্পত্তিতে এনবিআর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত না হওয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য উপদেষ্টা পরিষদে পাঠানো হবে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, সংসদ-সদস্যদের গাড়িগুলো টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার মডেলের। সব গাড়ি ৩ হাজার ৩৪৬ সিসির। নিলামে প্রতিটির গাড়ির সংরক্ষিত মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। কিন্তু খুলনা-৩ আসনের সাবেক সংসদ-সদস্য এসএম কামাল হোসেনের গাড়ির দাম ওঠে ৩ কোটি ১০ লাখ টাকা। এছাড়া রংপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ-সদস্য আসাদুজ্জামানের গাড়ির দাম ওঠে ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। সাবেক সংসদ-সদস্য মজিবুর রহমানের গাড়ির সর্বোচ্চ দাম ওঠে ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ-সদস্য মোহাম্মদ সাদিকের গাড়ির দাম ওঠে ২ কোটি ১০ লাখ টাকা। সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ-সদস্য শাম্মী আহমেদের গাড়ি ৩০ লাখ টাকা, তারানা হালিমের গাড়ি ৫ লাখ টাকা, নেত্রকোনা-৪ আসনের সাবেক সংসদ-সদস্য সাজ্জাদুল হাসানের গাড়ি ৩০ লাখ টাকা, ময়মনসিংহ-৭ আসনের সাবেক সংসদ-সদস্য এ বি এম আনিসুজ্জামানের গাড়ির দর ওঠে ৫ লাখ টাকা। যশোর-২ আসনের সাবেক সংসদ-সদস্য তৌহিদুজ্জামানের গাড়ি ২০ লাখ টাকা, গাইবান্ধা-২ আসনের সাবেক সংসদ-সদস্য শাহ সারোয়ার কবীরের গাড়ি দেড় কোটি টাকা, জান্নাত আরা হেনরীর গাড়ির দাম ওঠে পাঁচ লাখ টাকা।

 

এনএএন টিভি