কোনো বিকল্প ছিল কী এলএনজি টার্মিনাল সরানো ছাড়া?

অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখার আগাম সতর্কতা হিসেবে পাইপলাইন থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে টার্মিনাল নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়।

এতে এলএনজি বন্ধ থাকায় চট্টগ্রাম, কুমিল্লা অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্যাস সংকট দেখা দেয়।

ফলে গ্যাসভিত্তিক কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হওয়ায় দেশজুড়েই শুরু হয় তীব্র লোডশেডিং।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উত্তাল সমুদ্রে কারিগরি দিক বিবেচনায় ভাসমান টার্মিনাল সরিয়ে নেয়া ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না।

শঙ্কা জাগানিয়া হলেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করে ঘূর্ণিঝড় মোখা।

তবে আগাম সতর্কতা হিসেবে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। যার মধ্যে ছিল কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি নিরাপদে সরিয়ে নেয়া।

ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাবে শুক্রবার (১২ মে) রাত থেকেই এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল।

পাইপলাইন থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ভাসমান টার্মিনাল দুটিকে গভীর সমুদ্রের নিরাপদ স্থানে নেয়া হয়।

এদিকে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় চট্টগ্রাম, কুমিল্লা অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্যাস সংকট দেখা দেয়।

এতে গ্যাসভিত্তিক কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হওয়ায় দেশজুড়েই তীব্র লোডশেডিং শুরু হয়।

ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল সরিয়ে নেয়ায় সংকট দেখা দিলেও সমুদ্রের উত্তাল পরিস্থিতিতে কারিগরি দিক থেকে এ ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প ছিল না বলেই মনে করেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরামর্শক প্রকৌশলী খন্দকার সালেক সুফী।

তিনি বলেন, ‘এসব ক্ষেত্রে সাগরে ভাসমান যে এলএনজি টার্মিনালগুলো থাকে,

সেগুলো সাধারণত কানেক্টিং পাইপলাইন থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে কাছাকাছি নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

সুতরাং, আমি মনে করি, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এটি যথাযথ।

এদিকে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে দেশে আরও দুটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

যার মধ্যে একটি হবে স্থলভিত্তিক, অন্যটি ভাসমান।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, ‘সরকার আরও দুটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করতে চায়।

এর মধ্যে একটি হবে কুতুবদিয়ায় ও আরেকটি পায়রায়। এতে আরও এক হাজার ঘনফুট গ্যাস যোগ হবে।

কাজেই, যদি কোনো কারণে ২০০ ঘনফুট না-ও পাওয়া যায়, আমাদের কাছে ৮০০ ঘনফুট গ্যাসের জোগান তো থাকবেই।’

আরও পড়ুন :

এনএএন টিভি