দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ডলার সংকটের মধ্যেও

ডলার সংকটের মধ্যেও আমদানি-রফতানির পরিমাণ বাড়ায় দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।

বিধিনিষেধের কবলে অর্থবছরের প্রথম আট মাসের স্থবিরতা কাটিয়ে মে মাসে রেকর্ড ৭ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস।

সে হিসাবে, ১১ মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৫৬ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা।

স্থবিরতা কাটিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এখন আর কোনো জেটি খালি থাকছে না।

সব জেটিতেই বার্থিং নিয়ে বিদেশি জাহাজ পণ্য খালাস করছে। অথচ অর্থবছরের প্রথম আট মাস একেবারেই ভিন্নচিত্র ছিল।

আমদানি কমে যাওয়ায় জাহাজের অপেক্ষায় অধিকাংশ জেটি একপ্রকার খালি থাকত।

চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্যানুযায়ী, গত ১১ মাসে ২৭ লাখ ১৮ হাজার কনটেইনারের পাশাপাশি ১০ কোটি ৮০ লাখ মেট্রিক টন পণ্য হ্যান্ডলিং হয়েছে।

আর পণ্যবাহী জাহাজ এসেছে ৩ হাজার ৯১৪টি। অবশ্য গত অর্থবছরে ৩২ লাখ কনটেইনার এবং ১১ কোটি ৮১ লাখ মেট্রিক টন পণ্য হ্যান্ডলিং করেছিল চট্টগ্রাম বন্দর।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, ডলার সংকট, বিলাসদ্রব্যের আমদানি নিষেধাজ্ঞা ও এলসি (ঋণপত্র) জটিলতার কারণে আমাদের আমদানি কার্যক্রম কিছুটা শ্লথ ছিল।

তবে তা কাটিয়ে বন্দরের এই অগ্রগতিতে রাজস্ব আদায়ে চমক দেখিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস।

অর্থবছরের শুরু থেকে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের শঙ্কা থাকলেও মার্চ-এপ্রিল এবং

মে মাসে ১৭ হাজার ৪২৬ কোটি টাকা আদায় করে দেশের অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।

এর মধ্যে মার্চে ৫ হাজার ৫২ কোটি টাকা, এপ্রিলে ৪ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা এবং

মে মাসে ৭ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে কাস্টমস।

বিশেষ করে জানুয়ারি থেকে ভোগ্যপণ্য, ভোজ্যতেল, জ্বালানি তেলের আমদানি বাড়ায় রাজস্ব আদায় বেড়েছে। পাশাপাশি গত পাঁচ মাসে গাড়ি আমদানিও বেড়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের উপকমিশনার ব্যারিস্টার ড. বদরুজ্জামান মুন্সি বলেন,

‘গত তিন মাসে রাজস্ব আদায় অনেক বেশি পরিমাণে হওয়ায় আমরা গত অর্থবছরের ‍তুলনায় ইতিবাচক গতি ধরে রাখতে পেরেছি।

উল্লেখ্য, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৬৪ হাজার ৭৫ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৫৯ হাজার ১৫৯ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়।

পরে ২০২২-২৩ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭৪ হাজার ২০৬ কোটি টাকা।

যদিও হাতে এক মাস সময় থাকলেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে রাজস্ব বোর্ড প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা পিছিয়ে আছে।

এনএএন টিভি