বঙ্গোপসাগরে মৎস্য সম্পদ আহরণে নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে ৩০ হাজার নৌযানকে আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় আনা হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার নৌযানে তিন ধরনের ডিভাইস বসানো প্রায় শেষ।
ফলে নৌযানের গতিবিধি ও দুর্ঘটনা থেকে উদ্ধারসহ অন্তত ১০ ধরনের সেবা পাবে উপকূলীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠী।
ভারত ও মিয়ানমার থেকে বঙ্গোপসাগরে এক লাখ ১৮ হাজার বর্গকিলোমিটার সমুদ্রসীমার মালিকানা পায় বাংলাদেশ।
কিন্তু বিশাল সম্ভাবনাময় এ ব্লু ইকোনমির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা না থাকায় মৎস সম্পদ আহরণ অনেকটাই অনিয়ন্ত্রিত।
এমন বাস্তবতায় সমুদ্রে মনিটরিং ও নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয়তায় উপকূলীয় ১৪টি জেলার ৬৭টি উপজেলার নৌযান প্রযুক্তির আওতায় আসছে।
এর ফলে নৌযানের সার্বিক তথ্য, নিষিদ্ধ সময় ও সীমারেখা এবং দুর্ঘটনার অবস্থানও জানা যাবে।
মৎস্য অধিদফতরের বাস্তবায়নাধীন ‘সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ’ প্রকল্পে উপকূলীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠী সুফল পাবে।
এ বিষয়ে সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক অধীর চন্দ্র দাশ বলেন,
বঙ্গোপসাগরের মাছের আধিক্য ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে বলে মনে করেন আমাদের জেলে এবং বিশেষজ্ঞরা।
কাজেই আমরা সাসটেইনেবল একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি যাতে যুগের পর যুগ আমাদের জেলেরা মাছ আহরণ করতে পারে এবং আমাদের বঙ্গোপসাগর যেন কোনোভাবে ধ্বংস না হয়।
প্রাথমিকভাবে বিনামূল্যে ১০ হাজার নৌযানে জিএসএম (গ্লোবাল সিস্টেম ফর মোবাইল কমিউনিকেশন) ও এআইএস (অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম) ডিভাইস বসানো হয়েছে।
এর মধ্যে ২৬৬টি ইন্ডাস্ট্রিয়ালে বসছে ভিএমএস (ভ্যাসেল মনিটরিং সিস্টেম), যা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হবে।
চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারহানা লাভলী বলেন, এ প্রকল্পের আওতায় মাছ ধরা নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
পাশাপাশি জেলেদের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো নিয়েও কাজ করা হচ্ছে।
প্রকল্পের আওতায় নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডসহ ৮টি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় জয়েন্ট মনিটরিং সেন্টার খোলা হয়েছে।
যার মাধ্যমে সারাদেশের ৩০ হাজরের বেশি মাছ ধরার ট্রলার নিয়ন্ত্রিত হবে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সামুদ্রিক মৎস্য অধিদফতরের পরিচালক মো. জিল্লুর রহমান বলেন,
এই সেল যে কোনো সময়ে যে কোনো পরিস্থিতিতে যানবাহনগুলোর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবে এবং
তারই পরিপ্রেক্ষিতে যারা আমাদের টহলে থাকবে তাদের সঙ্গে আন্তঃযোগাযোগ রক্ষা করে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রকল্পের আওতায় আমদানি করা ৯০ হাজার টন মাছের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও রোগ নির্ণয়ে চট্টগ্রামসহ তিনটি বিভাগে ল্যাবরেটরি তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে পতেঙ্গায় একটি চেকপোস্টও বসানো হয়েছে।
সমুদ্রের নিরাপত্তা ও সার্বিক তথ্য জানতে ১০ হাজার নৌযানে ৩ ধরনের ডিভাইস বসানো হচ্ছে।
এতে একদিকে যেমন মৎস্য সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে অন্যদিকে সব ধরনের নৌযান মৎস্য অধিদফতরের আওতায় আসবে।
