বাংলাদেশের নালা-ডোবায় জন্ম নেয়া কচুরিপানা দিয়ে পণ্য বিশ্বের অন্তত ২৫টি দেশে যাচ্ছে।
কচুরিপানা দিয়ে তৈরি করা হয় কাগজ। আর সেই কাগজ দিয়েই তৈরি হয় ৩০টিরও বেশি পণ্য, যা দেশে দেশে রফতানি হয়।
সোমবার (২৪ এপ্রিল) বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার প্রত্যন্ত গৈলা এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়,
ডোবা-নালায় সৃষ্টি হওয়া কচুরিপানা প্রথমে সংগ্রহ করা হয়। এরপর সেগুলো পরিষ্কার করে কেটে গরম পানিতে সেদ্ধ করা হয়।
পরে কচুরিপানার সঙ্গে পরিত্যক্ত কাগজ মিশিয়ে পেস্ট করা হয়।
সেই পেস্ট কাপড়ে লাগিয়ে আগুনের তাপে শুকিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে কাগজ তৈরি করা হয়।
বিবর্তন হেন্ড মেইড পেপার প্রজেক্ট নামের একটি সংগঠন কচুরিপানা থেকে এ কাগজ তৈরি করছে।
সংগঠনটির অধিকাংশ শ্রমিকই নারী। তারা জানান, কচুরিপানা থেকে বিভিন্ন রঙের কাগজ তৈরি করে তারা স্বাবলম্বী হয়েছেন।
এক শ্রমিক বলেন, আগে স্বামীর একার আয়ের সংসার চললেও এখন সংসার চালাতে নিজেদেরও আয় রোজগারের প্রয়োজন হচ্ছে।
ফলে সংসারে সচ্ছলতা আসার পাশাপাশি ছেলেমেয়ের পড়াশোনাও করানো যাচ্ছে।
দেশব্যাপী সংগঠনটির ২৯টি ইউনিট রয়েছে। এসব ইউনিটে নারী শ্রমিকের সংখ্যা ৩ হাজার।
আর প্রতি বছর কমবেশি ২০ কোটি টাকার পণ্য রফতানি হয়। এতে পাল্টে যাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা।
এখানে কাজ করা আরেকজন কর্মী জানান, নিজেদের তৈরি বিভিন্ন জিনিসপত্র বিদেশে যাচ্ছে।
তা দেশ ও আমাদের জন্য গর্বের। এসব কাজে ভালো বেতন পাওয়ায় সাংসারিকভাবেও স্বাবলম্বী হয়েছেন।
কচুরিপানার এ কাগজ দিয়েই ৩০টিরও বেশি পণ্য বানানো হচ্ছে।
নোটবুক, ঝুড়ি, ঘর সাজানোর সামগ্রী দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ছাপিয়ে বিশ্বের ২৫টি দেশে রফতানি হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিবর্তন হেন্ড মেইড পেপার পোজেক্টের ইউনিট ম্যানেজার অঞ্জন কুমার বিশ্বাস বলেন,
‘প্রতিনিয়ত বিদেশি বায়ারদের সঙ্গে আমরা কথা বলে যাচ্ছি। দেশের চেয়ে দেশের বাইরে এসব প্রোডাক্টগুলোর চাহিদা বেশি।
আমাদের প্রতিটি কর্মী ভালো কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিবছর আমরা বিপুল পরিমাণ পণ্য রফতানি করে থাকি।
বিশ্বের ৯০ জন বায়ার এসব পণ্য ২৫টি দেশে বিক্রি করেন উল্লেখ করে বিবর্তন হেন্ড মেইড পেপার পোজেক্ট ডেপুটি ডিরেক্টর সজল কৃষ্ণ দত্ত বলেন, আমাদের নারী কর্মীর সংখ্যাই বেশি।
- আরও পড়ুন:
- ভারতীয়দের বিনিয়োগের হার বেড়েছে স্বর্ণে

Comments are closed.