দিনাজপুরের মধ্যপাড়ায় দেশের একমাত্র কঠিনশিলা খনির উৎপাদন বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে সরকার।
এখানে উৎপাদন বাড়ানোর সঙ্গে নতুন আরেকটি খনি উন্নয়নের মাধ্যমে পাথর উৎপাদন তিনগুণ করতে চান নীতিনির্ধারকরা।
এ বিষয়ে প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
দিনাজপুরের মধ্যপাড়ায় দেশের একমাত্র কঠিনশিলা খনি অবস্থিত।
১৯৭৪ সালে ভূগর্ভের ১২৮ থেকে ১৩৬ মিটার গভীরতায় আবিষ্কৃত হয় গ্রানাইট পাথর।
বেশ উন্নত মানের হিসেবে বিবেচিত এখানকার পাথর ব্যবহৃত হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিমানবন্দরের রানওয়ে,
রেললাইন, সড়ক-সেতু অবকাঠামো উন্নয়নসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনায়।
তবে সম্ভাবনা জাগানিয়া হলেও অতীতে অনেক ক্ষেত্রেই অবহেলিত থাকে খনিটি।
ফলে দেশে বার্ষিক ১ কোটি ৯০ লাখ টন পাথরের চাহিদা থাকলেও মধ্যপাড়া জোগান দিতে পারছে কেবল ৬ থেকে ৭ শতাংশের মতো।
বাকি ৯০ শতাংশের বেশি চাহিদাই অন্যান্য দেশ থেকে আমদানির মাধ্যমে মেটাতে হচ্ছে।
এমন অবস্থায় মধ্যপাড়া খনির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বেশকিছু নতুন উদ্যোগ নিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে হওয়া নতুন চুক্তির প্রথম বছরে মধ্যপাড়ায় রেকর্ড প্রায় ১৪ লাখ টন পাথর উত্তোলন হয়েছে,
যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২ লাখ টন বেশি বলে দাবি করছেন খনিসংশ্লিষ্টরা।
এ ছাড়া নতুন আরেকটি খনি উন্নয়নের মাধ্যমে বর্তমানের তুলনায় তিনগুণ উৎপাদন বাড়াতে চান নীতিনির্ধারকরা।
সেক্ষেত্রে বর্তমানের সাড়ে ৫ হাজার টন থেকে দৈনিক উত্তোলন সক্ষমতা সাড়ে ১৬ হাজার টনে উন্নীত হবে।
আর তাতে বছরে প্রায় ৫০ লাখ টনের জোগান দিতে পারবে মধ্যপাড়া।
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সময় সংবাদকে বলেন, ‘আমরা নতুন করে ফিল্ড ও শেফট তৈরি করব।
এ বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। আমরা সম্ভাব্যতা পরীক্ষাও করে ফেলেছি। এখন আমরা কেবল অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছি।
যদিও খনি উন্নয়নে সময় লাগবে ৬ থেকে ৭ বছরের মতো।
সেই সঙ্গে জমি অধিগ্রহণসহ নতুন করে বিনিয়োগ প্রয়োজন ৩০০ মিলিয়ন ডলার।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, খনির উৎপাদন বাড়াতে পারলে দেশে পাথর চাহিদার বড় একটি অংশই মধ্যপাড়া মেটাতে পারে,
ফলে কমবে আমদানিনির্ভরতা।
আরও পড়ুন:

Comments are closed.