চাষিরা অ্যালোভেরা চাষ করে ক্ষতির মুখে

লাভের আশায় অ্যালোভেরা চাষ করে ক্ষতির মুখে নাটোরের ঔষধি গ্রামের কৃষকরা।

ফলে টানা তিন বছর লোকসানের পর তারা গাছ নষ্ট করে ফেলছেন।

এ ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের কারণে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ করেন তারা।

বুধবার (১২ এপ্রিল) সরেজমিন নাটোর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর খোলাবাড়িয়া ঔষধি গ্রামে দেখা যায়,

কৃষক শহিদুল ইসলামের জমি থেকে অ্যালোভেরার গাছ তুলে ফেলা হচ্ছে।

টানা তিন বছর অব্যাহত লোকসানের পর অ্যালোভেরা চাষ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘২ থেকে ৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে আমাদের পোষাচ্ছে না।

আমার এক বিঘা জমিতে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।’

শহিদুল ইসলামের মতো একই অবস্থা ঔষধি গ্রামের অন্য অ্যালোভেরা চাষিদের।

২০১০ সাল থেকে অ্যালোভেরা চাষে প্রতি বিঘায় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা লাভ হলেও ২০২০ সালের করোনার সময় থেকে লোকসান গুনতে শুরু করেন কৃষকরা।

১৫ থেকে ১৮ টাকা কেজির অ্যালোভেরা তিন বছর ধরে বিক্রি হচ্ছে ৩ থেকে ৫ টাকায়।

এতে উৎপাদন খরচ না ওঠায় কৃষকরা অ্যালোভেরার চাষ কমিয়ে দিয়েছেন।

এক কৃষক বলেন, ‘করোনা মহামারি ও বিভিন্ন সংকটের কারণে অ্যালোভেরার বাজার দিন দিন নিম্নগামী হচ্ছিল।

আমাদের প্রতি বিঘায় এক থেকে দেড় লাখ টাকা খরচ হয়। কিন্তু বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা।

তাতে তো আমাদের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।’

ঔষধি গ্রামে ৬০০ ধরনের ঔষধি গাছের উৎপাদন হলেও অ্যালোভেরার উৎপাদন হয় সবচেয়ে বেশি।

তবে সিন্ডিকেটের কারণে ন্যায্যমূল্য থেকে কৃষকরা বঞ্চিত হওয়ায় অ্যালোভেরার উৎপাদন কমছে

বলে জানান নাটোরের খোলাবাড়িয়া ঔষধি গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদিন।

তিনি বলেন, সিন্ডিকেটের কারণে অ্যালোভেরার বাজার ধ্বংস হয়ে গেছে। যার জন্য কৃষকরা অ্যালোভেরা বাদ দিয়ে কলা চাষ করছেন।

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বড় প্রতিষ্ঠানগুলো কেনা বন্ধ করায় দাম কমেছে।

এদিকে গত বছরের জুনে নাটোরের ঔষধি গ্রামের কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে

কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক অ্যালোভেরার ন্যায্যমূল্যের আশ্বাস দিলেও আজও সেই সুফল মেলেনি।

তবে অ্যালোভেরার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে বিভিন্ন দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

এনএএন টিভি