মার্কিন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলেছেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা ছিল ইরানের। ফলে তার নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছিল।
সম্প্রতি এ তথ্যটি প্রকাশ করেছেন তারা। যদিও গত ১৩ জুলাই ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টায় ইরানি পরিকল্পনার যোগসূত্র আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেননি কর্মকর্তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনের মিলওয়াকিতে রিপাবলিকান দলের জাতীয় সম্মেলন চলছে। এর দ্বিতীয় দিনেও যোগ দেন দলটি থেকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত মনোনীত ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিন তার কানে ব্যান্ডেজ নিয়ে দেখা যায়। গত ১৩ জুলাই পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের বাটলার এলাকায় নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় বন্দুকধারীর ছোড়া গুলি কানে লাগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের।
এ ঘটনার পর আলোচনায় আসে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিক্রেট সার্ভিসের সক্ষমতা নিয়ে। আর এতে শুরু হয় হামলার তদন্ত।
এবার সিক্রেট সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানালেন, ট্রাম্পকে হত্যা করতে ইরানি পরিকল্পনা রয়েছে- এমন খবর জানার পর তার নিরাপত্তা জোরদার করে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। নির্বাচনী সমাবেশে হামলার কয়েক সপ্তাহ আগে থেকে ট্রাম্পের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল।
শুধু সিক্রেট সার্ভিস নয়, ট্রাম্পের নির্বাচনী শিবিরও তাকে হত্যায় ইরানি হুমকির কথা জানত। ট্রাম্পের নির্বাচনী শিবিরকে জানিয়েই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল।
গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যম সিবিএস জানায়, ইরানি হুমকির খবর পেয়ে গত জুন থেকে ট্রাম্পের নিরাপত্তা জোরদার করছে সিক্রেট সার্ভিস। নিরাপত্তার জন্য বাড়তি কর্মী মোতায়েন করা হয়। ব্যবহার করা হয় ড্রোন ও রোবোটিক কুকুর। তবে সিক্রেট সার্ভিস যখন আগে থেকে ইরানি হামলার কথা জানতো তখন হামলাকারী ম্যাথিউ ক্রুকস কীভাবে ট্রাম্পের সমাবেশ মঞ্চের এত কাছ থেকে গুলি চালালো সে প্রশ্ন ওঠেছে। তবে এ ঘটনার সঙ্গে ট্রাম্পকে হত্যা করার ইরানি পরিকল্পনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সেটা নিশ্চিত করতে পারেননি কর্মকর্তারা।
মার্কিন বাহিনী ২০২০ সালে ইরাকের ভূখণ্ডে ইরানের কুদস ফোর্সের কমান্ডার কাসিম সোলাইমানিকে ড্রোন হামলা চালিয়ে হত্যা করে। তখন ট্রাম্প ও তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও তেহরানের পক্ষ থেকে হত্যার হুমকি পেয়েছিলেন। তখন থেকেই ট্রাম্পের সাবেক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ওপর আসা ইরানি হুমকি শনাক্তে কাজ করছেন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।
আরো পড়ুন :
