ভারত ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার রাশিয়ার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আসন্ন এক বৈঠককে সামনে রেখে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তার দুই গুরুত্বপূর্ণ মিত্র—ভারত ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নবায়নে উদ্যোগ নিয়েছেন। আগামী ১৭ আগস্ট আলাস্কায় নির্ধারিত বৈঠকের আগে গত শুক্রবার তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলাদা টেলিফোন সংলাপে অংশ নেন।

ভারতের সঙ্গে আলাপে পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। মোদি জানিয়েছেন, তারা ভারত-রাশিয়া বিশেষ কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এই আলাপ এমন সময় হলো, যখন রাশিয়ার তেল কেনার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে।

চীনের সঙ্গে আলোচনায় শি জিনপিং বলেন, ইউক্রেন সংকটের রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে পেতে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপ অব্যাহত রাখা বেইজিংয়ের কাছে ইতিবাচক বিষয়। পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে দ্বন্দ্বে চীন রাশিয়ার অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। সেপ্টেম্বর মাসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসান উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পুতিন চীন সফর করবেন বলেও জানা গেছে।

অন্যদিকে, দীর্ঘ সাড়ে তিন বছরের রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্প বারবার পুতিনকে চাপ দিয়ে আসছেন। তিনি শান্তিচুক্তির জন্য একটি সময়সীমা প্রস্তাব করেছেন এবং শর্ত না মানলে রাশিয়ার রপ্তানি বাজারে নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছেন।

বিবিসি জানিয়েছে, প্রস্তাবিত সমঝোতা অনুযায়ী রাশিয়া ডনবাস ও ক্রিমিয়ার নিয়ন্ত্রণ পাবে, আর খেরসন ও ঝাপরিজ্জিয়া অঞ্চল ছেড়ে দেবে। পাশাপাশি ইউক্রেনকে নিরপেক্ষ রাষ্ট্রে পরিণত করা, সামরিক সক্ষমতা হ্রাস এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারও রাশিয়ার শর্তের মধ্যে রয়েছে

ট্রাম্প মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে একটি ত্রিপক্ষীয় শান্তিচুক্তি করার সুযোগ আছে, যা রাশিয়া, ইউক্রেন এবং ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে গ্রহণযোগ্য হবে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই রাশিয়ার কাছে ভূখণ্ড হস্তান্তর করা হবে না। তার মতে, ইউক্রেনকে বাদ দিয়ে নেওয়া যেকোনো সিদ্ধান্ত শান্তির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে ।

এনএএন টিভি