এক দশকের বেশি সময় ধরে ইরানের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে বৈরিতা চলছে বাহরাইনের। এমনকি দীর্ঘ আট বছর ধরে এই দুই মুসলিম দেশের মধ্যে কোনো কূটনৈতিক সর্ম্পক নেই। তবে এবার দ্বন্দ্ব ভুলে দুই পক্ষই সম্পর্ক জোড়া লাগাতে আলোচনা শুরু করার বিষয়ে রাজি হয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বাহরাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রবিবার (২৩ জুন) তেহরানে বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল লাতিফ বিন রশিদ আল-জায়ানি এবং ইরানের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলী বাগেরি কানির মধ্যে বৈঠক হয়েছে। বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে আলোচনা শুরু করতে সম্মত হয়েছে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, রাজনৈতিক সম্পর্ক কীভাবে পুনরায় সচল করা যায়, তা বের করতে আলোচনা শুরু করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া হাতে নেয়ার জন্য দু’পক্ষ সম্মত হয়েছেন।
বাহরাইন ও ইরানের মধ্যে এক দশকের বেশি সময় ধরে বিরোধ চলে আসছে। বাহরাইনের মিত্র সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনার পর ২০১৬ সালে তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে মানামা। বাহরাইন দেশটির শিয়া সম্প্রদায়ের নেতৃত্বে ২০১১ সালের সরকারবিরোধী প্রতিবাদ আন্দোলনে জড়িত থাকার জন্য ইরানকে দোষারোপ করে।
অবশ্য ২০১৬ সালে সৌদি আরবও ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল। তবে গত বছর চীনের মধ্যস্থতায় এক চুক্তির অংশ হিসেবে সম্পর্ক জোড়া লাগায় রিয়াদ ও তেহরান। সৌদির সঙ্গে ইরানের সবকিছু ঠিক-ঠাক হলে ইরান ও বাহরাইনের সম্পর্কও উষ্ণ হয়ে উঠে।
এদিকে চলতি মাসের শুরুর দিকে ইরানি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য রাশিয়ার মাধ্যমে একটি অনুরোধ পাঠিয়ে বাহরাইন। এ ছাড়া গত মে মাসে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন বাহরাইনের রাজা হামাদ বিন ইসা আল খলিফা।
