গাজায় দখলদার ইসরাইলের ভয়াবহ আগ্রাসন চলছেই। অবরুদ্ধ উপত্যকায় অব্যাহত হামলায় একদিনে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৫৯ জন ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছেন অন্তত আরও ২৪৪। এ নিয়ে গাজায় প্রাণহানির সংখ্যা ৬৩ হাজার ছাড়াল।
মূলত, গাজা সিটিতে বিমান হামলার পাশাপাশি আরও জোরদার হয়েছে স্থল অভিযান। দক্ষিণে খান ইউনিস, উত্তরে জয়তুন ও শেখ রেদওয়ানসহ গাজার প্রত্যেকটি অংশেই চলছে নির্বিচার হামলা।
বোমাবর্ষণের কারণে আহতদের হাসপাতালে নেওয়াও হয়ে উঠেছে প্রায় অসম্ভব। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়াদের উদ্ধারে নেই পর্যাপ্ত সরঞ্জাম। বেশিরভাগ হাসপাতাল ধ্বংস হওয়ায় আহতরাও মারা যাচ্ছে বিনা চিকিৎসায়।
গত এক দিনে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে আরও ২৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যারা মানবিক সহায়তা সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১৮২ জন। এর ফলে শুধুমাত্র ত্রাণ নিতে গিয়ে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২০৩ জনে, আহত হয়েছেন অন্তত ১৬ হাজার ২২৮ জন (২৭ মে থেকে)।
মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে আরও ৫ জন মারা গেছেন। এর ফলে অনাহার-সম্পর্কিত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২২ জনে, যাদের মধ্যে ১২১ জন শিশু।
জাতিসংঘ সমর্থিত একটি জরিপ বলছে, উত্তর গাজায় ইতোমধ্যে দুর্ভিক্ষ চলছে এবং সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ এ দুর্ভিক্ষ দক্ষিণ গাজায়ও ছড়িয়ে পড়বে।
গত ১৮ মার্চ থেকে ইসরায়েল আবারও হামলা শুরু করার পর শুধু এই সময়েই ১১ হাজার ১৭৮ জন নিহত এবং ৪৭ হাজার ৪৪৯ জন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।
এছাড়া ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মামলাও চলছে।
