দক্ষিণ-পূর্ব আফ্রিকার দেশ মালাউইতে ঘূর্ণিঝড় ফ্রেডির আঘাতে নিহত দুই শতাধিক ছাড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বহু মানুষ।
মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আহত হয়েছেন আরও অনেকে।
মালাউইর দুর্যোগ ও ত্রাণ সংস্থা জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ফ্রেডিতে ২০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ১০ জেলায় দুর্যোগময় অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ মার্চ) দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় ফ্রেডি। উদ্ধারকর্মীরা কাদায় চাপা পড়া জীবিতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ঝড়ের পর মালাউইয়ের বিদ্যুৎ সরবরাহ বিকল হয়ে গেছে। দেশের বেশিরভাগ অংশে দীর্ঘস্থায়ী ব্ল্যাকআউটের সম্মুখীন হয়েছে।

অবিরাম বৃষ্টি ও প্রচণ্ড বাতাসের কারণে কিছু এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
ত্রাণ সংস্থাগুলো সতর্ক করছে, এই ধ্বংসযজ্ঞ মালাউইতে কলেরার প্রাদুর্ভাব বাড়িয়ে দেবে।
ফ্রেডি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো চলতি সপ্তাহে দক্ষিণ আফ্রিকা অতিক্রম করে। এর আগে ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে প্রথমবার আঘাত হানে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, দক্ষিণ গোলার্ধে রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়গুলোর মধ্যে ফ্রেডি অন্যতম।
ঝড়ে প্রচুর পরিমাণে পানি আবাসিক এলাকাগুলোতে ঢুকে পড়েছে। ভেসে গেছে বাড়িঘর। মালাউইয়ের বাণিজ্যিক কেন্দ্র, ব্লানটায়ার ভয়াবহ আকারে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ত্রাণ সংস্থাগুলো সতর্ক করছে যে, এই ধ্বংসযজ্ঞ মালাউইতে কলেরার প্রাদুর্ভাবকে আরও বাড়িয়ে দেবে।
পুলিশের মুখপাত্র পিটার কালায়া বলেন, ‘আমাদের নদীগুলো উপচে পড়ছে। পানিতে মানুষ ভাসছে, আমাদের ভবন ধসে পড়ছে।’
মেডিক্যাল দাতব্য সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস জানিয়েছে, হাসপাতালে পৌঁছানোর পর ৪০ টিরও বেশি শিশুকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
হাসপাতালগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, মর্গে লাশ রাখার জায়গা নেই। তাই দ্রুত স্বজনদের মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সূত্র : বিবিসি


Comments are closed.