৪৪ বছর পর মা-মেয়ের মিলন

১৯৭৫ সালের মে মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে নিজেদের বাড়িতে মেয়েকে শেষবারের মতো দেখেছিলেন হান তে-সুন। মেয়ে কিয়ং-হা তখন শিশু। বয়স মাত্র চার বছর।

সেদিনের কথা মনে করে হান তে–সুন বলেন, ‘আমি বাজারে যাচ্ছিলাম। কিয়ং-হাকে বললাম, তুই চল না? কিন্তু সে জবাব দিল, “না, আমি বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে যাচ্ছি।” ফিরে এসে দেখি ও নেই।’

এরপর চার দশকের বেশি কেটে যায়। হান আর মেয়েকে খুঁজে পাননি। অবশেষে ২০১৯ সালে মা-মেয়ের পুনর্মিলন হয়। তবে তত দিনে বয়স বেড়ে মধ্যবয়সী নারীতে পরিণত হয়েছেন কিয়ং-হা। তিনি তখন মার্কিন নাগরিক হিসেবে পরিচিত। তাঁর কিয়ং–হা নামটিও নেই। সেটি বদলে রাখা হয়েছে লরি বেন্ডার।

হানের অভিযোগ, মেয়ে কিয়ং-হাকে তাঁদের বাড়ির কাছ থেকেই অপহরণ করা হয়েছিল। এরপর তাঁকে একটি অনাথ আশ্রমে পাঠানো হয়। সেখান থেকে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, যেন সেখানকার একটি পরিবার তাঁকে লালন–পালন করতে পারে। তিনি গত বছরের অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মেয়ের অবৈধ দত্তক প্রক্রিয়া ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে এ মামলা করেছেন তিনি।

শুধু হান নন—সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শত শত মানুষ দক্ষিণ কোরিয়ার বিতর্কিত বিদেশি দত্তক কর্মসূচির বিরুদ্ধে ভয়ানক সব অভিযোগ এনেছেন। এর মধ্যে আছে জালিয়াতি, অবৈধ দত্তক, অপহরণ ও মানব পাচারের মতো অভিযোগ।

হানের অভিযোগ, মেয়ে কিয়ং-হাকে তাঁদের বাড়ির কাছ থেকেই অপহরণ করা হয়েছিল। এরপর তাঁকে একটি অনাথ আশ্রমে পাঠানো হয়। সেখান থেকে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, যেন সেখানকার একটি পরিবার তাঁকে লালন–পালন করতে পারে। হান গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
এত দীর্ঘ সময় ধরে এবং এত বিপুল সংখ্যায় শিশুদের বিদেশে দত্তক দেওয়ার নজির বিশ্বের আর কোনো দেশে নেই। ১৯৫০-এর দশকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার থেকে ২ লাখ শিশুকে বিদেশে দত্তক দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ শিশুকে পশ্চিমা দেশগুলোতে পাঠানো হয়।

চলতি বছরের মার্চ মাসে এক তদন্তে দেখা যায়, যথেষ্ট নজরদারি না করে দক্ষিণ কোরিয়ার একেকটি সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। তারা নজরদারি না করায় বেসরকারি সংস্থাগুলো শিশুদের গণহারে বিদেশে পাঠিয়েছে। লাভের আশায় শিশুদের পণ্যের মতো করে বিদেশে পাঠানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ তদন্তের ফলাফল দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে আরও অনেক মামলার পথ খুলে দিতে পারে। হান আগামী মাসে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এনএএন টিভি