ভারতের ওড়িশার পুরীতে রথযাত্রায় পদদলিত হয়ে ৩ জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজনই নারী
রোববার (২৯ জুন) ঘটনাটি ঘটেছে গুন্ডিচা মন্দিরের কাছে। এটি জগন্নাথ মন্দির থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এদিন ভোরে বড় সংখ্যক ভক্ত গুন্ডিচা মন্দিরে ‘দর্শন’-এর জন্য জমা হয়েছিলেন। এই সময় হঠাৎ ভিড় বেড়ে গেলে কিছু লোক পড়ে যান এবং তার ফলে পদদলিতের ঘটনা ঘটে। প্রভাতী দাস, বাসন্তী সাহু ও ৭০ বছর বয়সী প্রেমকান্ত মহান্তি নামে তিনজনের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। জানা গেছে, তারা সবাই খুরদা জেলা থেকে এসেছিলেন।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহতরা সবাই খুরদা জেলার বাসিন্দা এবং রথযাত্রায় অংশগ্রহণের জন্য পুরীতে এসেছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত ছিল, যার ফলে ভিড় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পুরীর জেলা কালেক্টর সিদ্ধার্থ শঙ্কর সোয়াইন জানিয়েছেন, মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে ময়নাতদন্তের পর।
স্থানীয় গণমাধ্যমের দাবি, পুলিশের ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা ছিল অপর্যাপ্ত। ঘটনার সময় নিরাপত্তা বাহিনী ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খায়।
এই দুর্ঘটনার পাশাপাশি রথযাত্রা দেরিতে শুরু হওয়া নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেডি প্রধান ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক বলেন, এবারের এই পবিত্র উৎসবের ওপর যে ছায়া নেমেছে, তার জন্য শুধুই প্রার্থনা করা ছাড়া কিছু করার নেই। মহাপ্রভু জগন্নাথ যেন সকলকে ক্ষমা করেন যাদের কারণে এই বিশৃঙ্খলা ঘটেছে।
অন্যদিকে, রাজ্যের আইনমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ হরিচন্দন নাম না করেই নবীন পট্টনায়েকের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বিজেডি সরকার অতীতে ভুল করেছে ও ভগবান জগন্নাথকে অপমান করেছে। ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতিবছর রথযাত্রার দ্বিতীয় দিনেই রথ গুন্ডিচা মন্দিরে পৌঁছেছে।
এ রথযাত্রা জগন্নাথ মন্দির থেকে শুরু হয়ে গুন্ডিচা মন্দিরে পৌঁছায়, যেখানে তিন দেবতা এক সপ্তাহ থাকেন। এ উৎসব ওড়িশার অন্যতম বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। যা প্রতি বছর লাখ লাখ ভক্তের আগমন ঘটে।
এদিকে, এই দুর্ঘটনার পেছনে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। বিজেডি নেতা ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক এটিকে ‘ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, ওড়িশার আইনমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ হরিচন্দন এই মন্তব্যকে ‘রাজনৈতিক বক্তব্য’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন এবং বিজেডি সরকারের অতীত কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেছেন। এই দুর্ঘটনা রথযাত্রার মধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থার জোরদার প্রয়োজনীয়তার কথাও পুনরায় সামনে এনেছে।
পুরীর এই ট্র্যাজেডি শুধুমাত্র শোক নয়, বরং জননিরাপত্তা ও রাজনৈতিক জবাবদিহিতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিলো।
