আল্লাহ ছাড়া কারো নামে কসম নয়

কসম শব্দটি আরবি। বাংলাতেও এটির ব্যবহার আছে। অর্থ শপথ। অনেকে আছেন কথায় কথায় কসম করেন। প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে কসম করেন। তবে প্রয়োজনে শপথ করা জায়েজ। কথায় কথায় শপথ করা মাকরুহ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে অধিক শপথ করে, যে লাঞ্ছিত, আপনি তার আনুগত্য করবেন না।’ (সুরা: কলম, আয়াত ১০)

আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে কসম

কসম একমাত্র আল্লাহ তাআলার নামেই করা যায়। আল্লাহ তাআলার নাম ব্যতীত অন্য কোনো জিনিসের কসম করা নাজায়েজ। এমনকি কোরআনের কসম করাও জায়েজ নয়, আল্লাহ তাআলা তার সৃষ্টির মধ্য থেকে যার নামে ইচ্ছা কসম করতে পারেন। কিন্তু সৃষ্টির জন্য আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে কসম করা জায়েজ নেই। তা সত্ত্বেও অনেক মানুষের মুখেই নির্বিবাদে গায়রুল্লাহর নামে কসম উচ্চারিত হয়। কসম মূলত এক প্রকার সম্মান, যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ পাওয়ার যোগ্য নয়। রাসুলুল্লাহ সা. বলেন,

সাবধান! নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে তোমাদের পিতৃপুরুষের নামে শপথ করতে নিষেধ করেছেন। কারো যদি শপথ করতেই হয়, তবে সে যেন আল্লাহর নামে শপথ করে অথবা চুপ থাকে। (বোখারি, মুসলিম, মিশকাত, হাদিস ৩৪০৭)।

অন্য হাদিসে রাসুল সা. বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে কসম করল, সে শিরক করল।’ (আবু দাউদ, তিরমিজি, মিশকাত, হাদিস ৩৪১৯)। অপর এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ সা. বলেন, ‘যে আমানত (আনুগত্য, ইবাদত, সম্পদ, গচ্ছিত দ্রব্য ইত্যাদি) এর নামে কসম করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।’ (আবু দাউদ, মিশকাত, হাদিস ৩৪২০)। সুতরাং কোরআনের, পিতা-মাতা ও সন্তানের মাথায় হাত দিয়ে, ইত্যাদি দিয়ে কসম খাওয়া নিষিদ্ধ।

রাসুলুল্লাহ সা. বলেন, ‘জেনে রাখ, আল্লাহ তোমাদের নিজের পিতার নামে কসম করতে নিষেধ করেছেন। যদি কসম করতেই হয় তবে যেন আল্লাহর নামেই কসম করে। নতুবা চুপ করে থাকে।’ (বোখারি, হাদিস ৬৬৪৬)

কসমের প্রকার

কসম সাধারণত ৩ প্রকার। ১. গামুস: অতীত বা বর্তমানকালের কোনো বিষয় সম্পর্কে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা কসম খাওয়া। এ ধরনের কসম করা কবিরা গুনাহ। এজাতীয় কসমের কোনো কাফফারা নেই। এর পাপ থেকে নিষ্কৃতির একমাত্র উপায় আল্লাহর কাছে তাওবা ও ইস্তিগফার করা। ২. মুনআকিদাহ: ভবিষ্যতে কোনো কাজ করা বা না করার ব্যাপারে কসম খওয়া। যদি কসম ভঙ্গ করে তাহলে কাফফারা দিতে হবে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন,

‘আল্লাহ তাআলা অর্থহীন কসমের জন্য তোমাদের দায়ী করবেন না। কিন্তু যেসব কসম তোমরা দৃঢ়ভাবে করো, সেসবের জন্য তিনি তোমাদেরকে দায়ী করবেন।’ (সুরা: মায়িদা, আয়াত ৮৯)

৩. লাগব: লাগব বলা হয়, কসমকারী অতীত বা বর্তমানকালের কোনো একটি বিষয়ে নিজের ধারণা অনুযায়ী সত্য মনে করে কসম করে অথচ বিষয়টি বাস্তবে তার ধারণামাফিক নয়, বরং তার বিপরীত। এই ধরনের কসমের ক্ষেত্রে আশা করা যায় যে আল্লাহ তাআলা পাকড়াও করবেন না। (বাদায়েউস সানায়ে: ৩/১৭)

কসমের পাঁচ পদ্ধতি

১. ওয়াজিব কসম: নিরপরাধ ব্যক্তির প্রাণ বাঁচানোর উদ্দেশ্যে শপথ করা ওয়াজিব। ২. মুস্তাহাব: দুই মুসলমানকে মিলানো বা কোনো মুসলমানকে ক্ষতি থেকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে শপথ করা মুস্তাহাব। ৩. মুবাহ বা জায়েজ: কোনো বৈধ জিনিস করা বা ছাড়ার ব্যাপারে শপথ করা জায়েজ। নিজের বৈধ অধিকার হাসিলের জন্য শপথ করাও জায়েজ। ৪. মাকরুহ: কোনো মাকরুহ কাজ করা বা কোনো মুস্তাহাব কাজ না করার শপথ করা মাকরুহ। ৫. হারাম: মিথ্যা কথার কসম বা গুনাহে লিপ্ত হওয়া বা কোনো ওয়াজিব ছেড়ে দেওয়ার শপথ করা হারাম।
(আল মুগনি: ৯/৩৮৭-৮৯)

কসমের কাফফারা বা ক্ষতিপূরণ

কসম পূর্ণ করতে না পারলে অবশ্যই কসমের কাফফারা বা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কাফফারা দেয়া ওয়াজিব। না হয় তার কবিরা গুনাহ হবে। কবিরা গুনাহ মানে বড় গুনাহ। যে একটি গুনাহই জাহান্নামে পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট। কসম ভঙ্গ করার পরই কাফফারা আদায় করতে হবে। কাফফারার দুই পদ্ধতি।

১০ জন অসহায় দরিদ্রকে দুই বেলা পেট ভরিয়ে খানা খাওয়ানো অথবা ১০ জন দরিদ্রকে ১০ সেট পোশাক দেয়া।

এনএএন টিভি

Share this news as a Photo Card