কারো লাশ অক্ষত থাকা মানেই জান্নাতি কিংবা অক্ষত না থাকলে জাহান্নামির লক্ষণ—এমন কথা কোরআন-হাদিসে নেই।
তবে এ কথা সত্য যে, আল্লাহ তাআলা তার প্রিয় বান্দাকে কোনো অলৌকিক ঘটনার মাধ্যমে সম্মানিত করতে পারেন।
সেটি হতে পারে যুগের পর যুগ লাশ অক্ষত রাখার মাধ্যমেও।
অতএব হতে পারে যে এটি একটি কেরামত কিংবা আল্লাহর কুদরতের একটি অংশ।
অতএব, যে ব্যক্তি তার জীবদ্দশায় ঈমান ও নেক আমলের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন,
তার লাশ যদি দীর্ঘদিন পরও আমরা অক্ষত দেখতে পাই, সে ক্ষেত্রে তার প্রতি আমরা সুধারণা করতে পারি।
ইমাম আবু জাফর তাহাবি ইমাম আবু হানিফা, মুহাম্মদ, আবু ইউসুফ (রহ.)
ও আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আকিদা বর্ণনা করে বলেন, ‘সকল মুমিন করুণাময় আল্লাহর ওলি।
তাদের মধ্য থেকে যে যত বেশি আল্লাহর অনুগত ও কোরআনের অনুসরণকারী সে ততবেশি আল্লাহর কাছে কেরামত-প্রাপ্ত।
তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, অতি আবেগী হয়ে তাকে যেন জান্নাতি সার্টিফিকেট আমরা না দিই।
কেননা, নবীজি (স.) যাদের জান্নাতি বলেছেন, তাদের ছাড়া অন্য কাউকে জান্নাতি বলার অধিকার ইসলাম আমাদের দেয়নি।
অতএব, কারো প্রতি সুধারণা পোষণ করতে গিয়ে সীমা লঙ্ঘন যেন না করি সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
আবার, কারো লাশ ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেলে বা পচে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে তিনি বদকার ছিলেন কিংবা তার অবস্থান জাহান্নামে হবে।
এসব কথা কোরআন-হাদিসে নেই। সুতরাং এ ধরনের ইস্যুতে আমাদের সতর্ক হতে হবে।
ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ‘আল-আলিম ওয়াল মুতাআল্লিম’ গ্রন্থে কাউকে জান্নাতি বা জাহান্নামি বলা প্রসঙ্গে উল্লেখ করেন: ‘এ ক্ষেত্রে ওহির ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর করতে হবে।
কোরআন বা হাদিসে যাদের জান্নাতি বা জাহান্নামি বলে উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের নিশ্চিতরূপে জান্নাতি বা জাহান্নামি বলতে হবে।
অন্য কারো বিষয়ে নিশ্চিতরূপে বলা যাবে না যে, লোকটি জান্নাতি বা জাহান্নামি..।
মুমিনদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত প্রদান থেকে বিরত থাকি,
তাদের আমরা জাহান্নামি বলেও সাক্ষ্য দিই না এবং জান্নাতি বলেও সাক্ষ্য দিই না।
আরও পড়ুন:
