আসছে পবিত্র ঈদুল আজহা। এই ঈদ আমাদের জন্য শুধু আনন্দের বার্তা নয়, বরং তা হচ্ছে ইবরাহিম আ.ও ইসমিইল আ.- এর ত্যাগের মহান আদর্শকে স্মরণ করে আমাদের জীবনে তাকওয়া, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করার একটি শ্রেষ্ঠ উপলক্ষ। কোরবানি ইবাদত, আর ইবাদতের পূর্ব প্রস্তুতি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি তা কুরআন-সুন্নাহ দ্বারা পরিচালিত হওয়াই কাম্য।
কোরবানির আগেই যেসব প্রস্ততি গ্রহণ করতে হয়
১. নিয়ত ও তাকওয়ার সংশোধন
وَمَا تُقَدِّمُوا لِأَنفُسِكُم مِّنْ خَيْرٍ يَجِدْهُ عِندَ اللَّهِ ۗ إِنَّ اللَّهَ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِير তোমরা নিজেদের জন্য যা কিছু সৎকর্ম অগ্রিম পাঠাবে, আল্লাহর কাছে তা পাবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের কাজসমূহ দেখেন। (সুরা বাকারা: ১১০)
রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
إنما الأعمال بالنيات، وإنما لكل امرئ ما نوى নিশ্চয়ই সমস্ত কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। এবং প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য সে যা নিয়ত করে। (সহিহ বুখারি: ১, মুসলিম: ১৯০৭) তাই প্রথম প্রস্তুতি হলো, ইখলাস বা একমাত্র আল্লাহর জন্য নিয়ত ঠিক করে নেয়া।
২. কোরবানির পশু নির্বাচনে সতর্কতা ও সৌন্দর্য বাছাই
لَن يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَٰكِن يَنَالُهُ التَّقْوَىٰ مِنكُم তাদের গোশত ও রক্ত আল্লাহর নিকট পৌঁছে না, বরং তোমাদের তাকওয়া তার নিকট পৌঁছে। (সুরা হজ, ২২:৩৭)
রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, أَرْبَعٌ لاَ تُجْزِئُ فِي الأَضَاحِيِّ চার ধরনের পশু কোরবানিতে চলবে না। ১. স্পষ্ট খোঁড়া, ২. স্পষ্ট অসুস্থ, ৩. এক চোখে অন্ধ, ৪. খুবই দুর্বল ও অস্থিপঞ্জরবিশিষ্ট। (সুনানু আবি দাউদ: ২৮০২) সুতরাং পশু নির্বাচনের সময় সুস্থ, বয়সপূর্ণ ও সুন্দর পশু বাছাই করা জরুরি।
৩. আর্থিক প্রস্তুতি গ্রহণ
আল্লাহর রাহমত পেতে হলে খরচ করতেও প্রস্তুত থাকতে হবে। لَن تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ তোমরা কখনো পূর্ণ ধার্মিকতা অর্জন করতে পারবে না যতক্ষণ না তোমরা আল্লাহর রাস্তায় তোমাদের প্রিয় বস্তু থেকে ব্যয় কর। (সুরা আলে ইমরান, ৩:৯২) যারা কোরবানি দিতে সক্ষম, তাদের আগে থেকেই টাকা জমিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।
৪. দশ জিলহজের ফজিলত বুঝে তাৎপর্যপূর্ণ সময়ের সদ্ব্যবহার
রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
ما من أيامٍ العملُ الصالحُ فيها أحبُّ إلى اللهِ من هذه الأيامِ، يعني أيامَ العشرِ দশ জিলহজের এ দিনগুলোর মতো কোনো দিন নেই, যাতে নেক আমল আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয় হয়। (সহিহ বুখারি: ৯৬৯)
সেহেতু কোরবানির আগের দিনগুলোতে বেশি বেশি ইবাদত, দুআ, তাসবিহ, তাহলিল, তাকবির, রোজা পালন ইত্যাদিতে সচেষ্ট থাকা উচিত। কোরবানি শুধু পশু জবাই নয়, বরং এটি আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ, তাকওয়া অর্জন, এবং আত্মশুদ্ধির মাধ্যম। এই ইবাদতকে সুন্দরভাবে আদায় করার জন্য কুরআন-হাদিসের আলোকে পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করা আবশ্যক। যেন আমাদের কুরবানি আল্লাহর দরবারে কবুল হয় এবং আমরা তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি।
اللَّهُمَّ تَقَبَّلْ مِنَّا وَارْزُقْنَا تَقْوَاكَ وَإِخْلَاصَ النِّيَّةِ فِي أَعْمَالِنَا، وَاجْعَلْ كُلَّ أُضْحِيَّةٍ قُرْبَةً إِلَيْكَ হে আল্লাহ! আমাদের পক্ষ থেকে কোরবানি কবুল করুন, আমাদের তাকওয়া দিন, আমাদের সব কাজে ইখলাস দান করুন এবং প্রতিটি কুরবানিকে আপনার নৈকট্যের মাধ্যম বানিয়ে দিন।
