দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে জাকাত ব্যবস্থা প্রাতিষ্ঠানিক করার গুরুত্ব অপরিসীম।
সব বিত্তবান মুসলিম নর-নারীর ওপর সঠিকভাবে হিসাব করে জাকাত দেওয়া ফরজ।
ইসলামের অন্যান্য মৌলিক বিধানের মতো জাকাত অস্বীকার করা কুফরি এবং সঠিকভাবে আদায় না করা ফাসেকি ও কবিরা গুনাহ।
ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা নামাজ প্রতিষ্ঠা কোরো ও জাকাত দাও, তোমরা উত্তম কাজের যা কিছু আগে পাঠাবে আল্লাহর কাছে তা পাবে,
তোমরা যা করো আল্লাহ এসব দেখেন।
যে বছরের যে দিনটিতে নিসাব পরিমাণ অর্থ সম্পদের মালিক হবে,
হিজরি সনের হিসাবে পরবর্তী সনের সেই দিনটি তার জাকাত প্রদানের সময় বা বর্ষপূর্তি।
কেননা এর মধ্যে মারা গেলে জাকাত খেলাফি গণ্য হয়ে পরকালের শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।
ইরশাদ হয়েছে, ‘…যারা স্বর্ণ ও রৌপ্য পুঞ্জীভূত করে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না তাদের মর্মন্তুদ শাস্তির সুসংবাদ দাও।
জাকাতের অন্যতম উদ্দেশ্য জনগণকে অভাবমুক্ত করে সচ্ছল বানানো। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে জাকাতের ভূমিকা অপরিসীম।
আর অভাব দূর হলে অপরাধ অর্ধেক হ্রাস পাবে। জাতীয় চরিত্র ও স্বভাব ভালো হলে বাকি অর্ধেক অপরাধও দূর হবে এবং
সমাজ হবে শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণময়। ইরশাদ হয়েছে, ‘তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করুন,
এর মাধ্যমে আপনি তাদের পবিত্র করবেন এবং পরিশোধিত করবেন, আপনি তাদের জন্য দোয়া করবেন,
আপনার দোয়া তাদের জন্য স্বস্তিকর, আল্লাহ সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞ।
যাদের ধনী হওয়ার সময় মনে নেই তারা রমজানের কোনো একটি দিনকে জাকাত প্রদানের সময় নির্ধারণ করে দেবে।
তারাও ওই দিনই সম্পদের হিসাবে বসবেন।
তখন মোট অর্থ সম্পদে কিছু অঙ্ক প্রবেশ করলে তা জাকাতযোগ্য হবে আর কিছু টাকা বের হয়ে গেলে তা জাকাতের হিসাবে আসবে না।
সাহিবে নিসাব অর্থাৎ হিজরি বছর শেষে কারো মালিকানায় সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা
এর আনুমানিক মূল্য সাড়ে চার লাখ টাকা অথবা সাড়ে ৫২ ভরি রুপা বা
এর আনুমানিক মূল্য ৪৫-৫০ হাজার টাকা বা সমমূল্যের ব্যবসা পণ্য থাকলে মোটের ওপর শতকরা ২.৫ ভাগ জাকাত দিতে হবে।

Comments are closed.