পারিবারিক বিয়ের প্রাণ হারায় যে সব ভুলে!

আদিকাল থেকেই বাঙালিদের বেশিরভাগ বিয়ে পারিবারিকভাবে হতো। এই ধরণের বিয়ের ক্ষেত্রে যেহেতু বর-কণের মধ্যে আথে থেকেই জানা শোনা নেই, তাই তাদের বিয়ের পর সম্পর্কে খুবই যত্নবান হতে হয়। না হলে সম্পর্কে গড়ায় বিচ্ছেদে। তাহলে জেনে নেয়া যাক কোন কোন ভুলে অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ দীর্ঘস্থায়ী হয় না:

১. ছোটোখাটো বিষয় নিয়ে লাগাতার ঝগড়া

সম্পর্কে এক-আধদিন ঝামেলা হতেই পারে। তবে নিয়মিত ঝগড়া অশান্তি কিন্তু বিপদ সংকেত দেয়।

আর এমন সংকেত দেখা দিলেই বুঝবেন সামনেই রয়েছে বিরাট বিপদ। তাই নিজেদের মধ্যে কোথায় সমস্যা হচ্ছে, এই বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করুন।

যদি কোথাও সমস্যা থাকে তাহলে তা অতিসত্ত্বর ঠিক করে নিন। এতেই সম্পর্ককে বিপদের মুখ থেকে রক্ষা করতে পারবেন।

২. অহংকার হতে পারে অশান্তির কারণ

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আবার প্রতিযোগিতা কিসের? এই সম্পর্কে তো কেবলই পাশে থাকার বার্তা দেওয়া হয়।

সুখে-দুঃখে যাতে একে অপরকে সঙ্গে নিয়ে সময়টা উতরে যাওয়া যায়, তাই নিশ্চিত করা হয়। তবে বিবাহের এই ধারণাটা অনেকেই বুঝেও বুঝতে চান না।

তাই স্বামী-স্ত্রীর ভিতরেও তৈরি হয়ে যায় ইগো। আর এই বিষের সংস্পর্শে এসেই প্রাণ হারায় পারিবারিক বিয়ে, তাই যেভাবেই হোক অহংকার কমাতে হবে।

​৩. সবজান্তা আবভাব​

সম্পর্কের মধ্যে কোনও একজন সব বোদ্ধা হয়ে গেলে খুব সমস্যা। এনারা যে কোনও বিষয়ে অগাধ পাণ্ডিত্য ফলাতে যান।

আর এই ফাঁকে ভুলে যান যে অপরদিকের মানুষটি এই আচরণে কতটা বিরক্ত হচ্ছেন।

এমনকি ধীরে ধীরে এই কারণে পরস্পরের থেকে দূরে যেতে থাকেন দম্পতিরা।

তাই আপনাদের মধ্যে কারও যদি সবজান্তা ভাব থাকে, তাহলে তাঁকে বোঝান। তা নাহলে যে সম্পর্কের ভাঙন নিশ্চিত।

৪. সঙ্গীকে সময় দেয়ার বিষয়ে অনীহা

এখন স্বামী-স্ত্রী দুজনেই চাকরি করেন। মাসের শেষে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে মোটা টাকা। এতে সংসারের চালাতে সুবিধা হয়।

তবে অনেকেই কাজ নিয়ে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়েন যে একে অপরকে সময় দিতেও ভুলে যান। রাতে একসঙ্গে নিদ্রাযাপন করা ছাড়া তাদের আর দেখা হয় না।

মনে রাখবেন, সম্পর্কে একদম সময় না দেওয়া কিন্তু স্লো পয়জনিংয়ের সমান।

এটাই রিলেশনশিপকে খাদের কিনারে দাঁড়ি করিয়ে দেয়। তাই যত কাজই থাকুক না কেন একে অপরকে সময় দিতেই হবে।

৫. ঘনিষ্ঠতায় অনিচ্ছা প্রকাশ

একটা বয়সের পর শারীরিক দূরত্ব তৈরি হবেই। এটা কালের নিয়মেই ঘটবে।

কিন্তু তার আগে পর্যন্ত নিজেদের ভিতর দূরত্ব তৈরি হলে তা সম্পর্কের সর্বনাশ ডেকে আনে।

আর এই বিষয়টা গবেষণাতেও প্রমাণিত হয়ে গিয়েছে। তাই যেভাবেই হোক শারীরিক ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখতেই হবে। এতেই আপনাদের বৈবাহিক জীবন হবে দীর্ঘজীবী।

এনএএন টিভি