৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে আমার পেছনে। আল্লাহর রহমতে আর আপনাদের দোয়ায় টাকার প্রতি কোনো লোভ হয় নাই আমার। আমাকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আপনি যা করবেন, পূর্ণ সমর্থন দেবো। আমি লাইসেন্স বাতিল করে দিয়েছি।
গতকাল দুপুরে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রীর নিজস্ব তহবিল থেকে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জামায়াতের লোকেরা বলে যে এটা নাকি বেইনসাফি হয়েছে। ওই বেটাও জামায়াত কর্মী, মানুষকে ধোঁকা দেয়। কয়েকটা টাকা কম নিয়ে ধোঁকা দেয়। ছয়টা বাচ্চাকে মেরে ফেলেছে। আপনাদেরকে বলবে যে আল্লাহ নিয়া গেছে। আল্লাহ এমনি নিয়া যায়। এই ঘরের সবগুলো ফ্যান যদি বন্ধ করে গ্লাস লাগাইয়া আপনাদেরকে আধা ঘণ্টা রাখি বাঁচবেন নাকি বলেন। একটা বাচ্চা বিনা অক্সিজেনে তিন মিনিট বাঁচতে পারে আর আমরা বয়স্করা ১৪ মিনিট বাঁচতে পারি। যদি ফ্যান না থাকে, অক্সিজেন ঘরে না ঢুকে, এই যে কার্বন ডাইঅক্সাইড দিয়ে ছাড়বেন গ্যাস বিষাক্ত আমরা যা ছাড়ি, যা নিই সেটা অক্সিজেন। এটা নাক দিয়ে মুখ দিয়ে ছাড়ি, এটা কার্বন ডাইঅক্সাইড বিষাক্ত। সব মরে যাবে।
তিনি বলেন, বাচ্চাগুলোকে একটা বদ্ধ রুমে রাখা হয়েছিল। আমি তো ভিজিট করেছি। বন্ধ রুম, কোনো জানালা নাই। তার মধ্যে নার্স এসি বন্ধ করে দিয়েছে। সকল বাচ্চা দুই ঘণ্টা পরে সমানে কাঁদছে যখন কার্বন ডাইঅক্সাইড বাইড়া গেছে। ওই প্রত্যেকের সাথে মা আছে, বাইরের লোক আছে। কাইন্দা কাইন্দা জোরে জোরে মায়েরা ডাকছে। একটা নার্স আছে নাই। একটা ডাক্তার নাই ডিউটিতে। তারপরে একটা বাচ্চাকে নিয়া গেছে ওপরে। ১৫ মিনিটে সেই বাচ্চা ভালো। ঘর থেকে নেয়ার ১৫ মিনিট পরে যে বাচ্চাটা ভালো হলো। তখনই তো ডাক্তারের চিন্তা করা উচিত বাচ্চাটা এখন ভালো হইল কেন? আমি যে আনারি, ডাক্তার না, আমিও তো বুঝতাম যে বাচ্চাতো মুক্ত বাতাসে এসে ভালো হয়েছে। তার মানে ওইখানে অক্সিজেন পায় নাই। আবার বাচ্চাটাকে ঘরে নিছে। নেওয়ার পরে ছয়টা বাচ্চা একসাথে মারা গেছে। তার লাইসেন্স বাতিল করব নাকি চুমাবো ধইরা বলেনতো।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ওরা এখন উনার পক্ষে কথা বলে। কথা বলুক আর যাই করুক, বাতিল করছিতো করছি। এই একটা পানিশমেন্টে সারা বাংলাদেশের প্রাইভেট হসপিটালগুলো ঠিক হয়ে যাবে। মানুষকে সেবা দিতে হবে। টাকা নেবে, সস্তা কথা বলে কম নেয়। আরে কম নেয়, কী কম। এইটা কম নেয়, কী করে এগুলো। ছয়টা মায়ের বুক খালি হইছে। কাজেই এগুলো থেকে আপনাদের সাবধান থাকতে হবে। মানুষের সেবা করতে হবে সত্যিকারভাবে বিনাস্বার্থে। লোক দেখানো সেবা করলে চলবে না।
তিনি বলেন, পাইলটিং স্কিমের মাধ্যমে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হবে। এ পরিকল্পনার আওতায় স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিটি ঘরে ঘরে গিয়ে প্রাথমিক সেবা প্রদান করবেন। পরবর্তীতে প্রয়োজন মনে হলে তবেই রোগীকে হাসপাতালে এনে চিকিৎসা দেওয়া হবে। এভাবে দেশব্যাপী চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকার দুর্নীতি করে দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করেছে। আমরা একটি ব্যতিক্রমধর্মী সরকার পরিচালনা করছি। দলমত নির্বিশেষে সকল মানুষের সেবা করতে চাই। সরকারি সুবিধা পেতে এখন আর কাউকে ঘুষ দিতে হয় না। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ, সবাইকে দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থাকতে হবে।
তিনি জানান, চীনের সহযোগিতায় দেশে ৩ হাজার শয্যাবিশিষ্ট দুটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব হাসপাতালে শিশু ও নারীদের চিকিৎসাসেবার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হবে।
অনুষ্ঠানে মনোহরদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজীব মিয়া, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুর রহমান সরকার দোলন, বেলাব উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহসান হাবিব বিপ্লব, মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা, মনোহরদী পৌর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবদুল হান্নানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন ।
- Click to share on Facebook (Opens in new window)
- Click to share on Twitter (Opens in new window)
- Click to share on WhatsApp (Opens in new window)
- Click to share on Telegram (Opens in new window)
- Click to print (Opens in new window)
- Click to email a link to a friend (Opens in new window)
- Click to share on LinkedIn (Opens in new window)
- Click to share on Pinterest (Opens in new window)
- Click to share on X (Opens in new window)
