তারেক রহমানের নামে জাল কার্ড ও শফিকুর রহমানের বিকৃত ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে ভুয়া বক্তব্য ও খণ্ডিত ভিডিও ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এ ধরনের অপতথ্যের শিকার হচ্ছেন। সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়ানো একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয়েছে, তারেক রহমান বলেছেন, ‘বিএনপি দুর্নীতি করলেও দেশের উন্নয়ন করার পরে দুর্নীতি করেছে, আওয়ামী লীগ উন্নয়ন ছাড়াই শুধু দুর্নীতি করেছে’। এই কার্ডটি একাধিক পেজ ও গ্রুপে ছড়িয়ে পড়েছে এবং একটি পেজে এক লাখ ৭০ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া ও তিন হাজারের বেশি শেয়ার হয়েছে। যদিও পেজটি মূলত ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্ট তৈরি করে, অনেকেই ভুলবশত এটি বিশ্বাস করছেন।

কিন্তু তারেক রহমানের এমন কোনো বক্তব্য কোনো সংবাদমাধ্যমে পাওয়া যায়নি। গত ৩০ জানুয়ারি বগুড়ার আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জনসভায় তারেক রহমান বলেছিলেন, শুধু বগুড়া নয়, গোটা বাংলাদেশই দীর্ঘদিন উন্নয়নবঞ্চিত ছিল এবং ভবিষ্যতে সমগ্র দেশের কথা চিন্তা করেই উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

এদিকে কওমি মাদ্রাসা নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের বক্তব্যের একটি ভিডিও ক্লিপ ফেসবুকে ছড়িয়েছে। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কওমি মাদ্রাসা থেকে পাস করা ব্যক্তিদের মসজিদ ও মেহরাব থেকে বিদায় করে দেওয়া হবে। মূল ভিডিওটি গত ৩০ জানুয়ারি লক্ষ্মীপুরে নির্বাচনী জনসভায় তাঁর দেওয়া বক্তব্যের। ১ ঘণ্টা ২০ মিনিটের ওই ভিডিওতে তিনি বলেছিলেন, ‘ভয় দেখানো হয়, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কওমি মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া হবে।’ এটাকে অপপ্রচার আখ্যায়িত করে তিনি কওমি মাদ্রাসাকে জামায়াতের ‘কলিজা ও হৃদয়’ অভিহিত করেছিলেন। যাচাই করে দেখা যায়, ওই ভিডিও থেকে খণ্ডিত অংশ নিয়ে সম্পাদনা করে ভিডিও ক্লিপটি তৈরি করা হয়েছে।

পোস্টাল ব্যালট নিয়ে বিভ্রান্তিকর দাবি
পোস্টাল ব্যালট গণনায় জামায়াত এগিয়ে রয়েছে, এমন খবর ছড়ানো হচ্ছে ফেসবুকে। বিভিন্ন পেজ ও আইডি থেকে দাবি করা হচ্ছে, ৪ লাখ ৩২ হাজার প্রবাসীর পোস্টাল ভোটের মধ্যে ৩ লাখ ৬০ হাজার ভোট পড়েছে দাঁড়িপাল্লা মার্কায়, ধানের শীষ পেয়েছে ৭২ হাজার ভোট।

অথচ নির্বাচন কমিশন আগেই জানিয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার আগে পোস্টাল ব্যালট গণনায় আসবে না।

 

এনএএন টিভি