৬ মাসে আগে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরুকরেছিলেন বিমানের পাইলট তৌকির

ঢাকার উত্তরায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট তৌকির ইসলাম সাগর নিহত হয়েছেন। মাত্র ছয় মাস আগে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছিলেন এই তরুণ পাইলট। কিন্তু স্বপ্নযাত্রা থেমে গেল হঠাৎই, একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনায়।

দুপুরটা ছিল একদমই সাধারণ। রাজধানীর উত্তরার আকাশে তখনো রোদের আলো ঝলমলে। হঠাৎই আকাশ চিরে বিকট শব্দে ভেঙে পড়ে একটি যুদ্ধবিমান। মুহূর্তেই চারপাশে আতঙ্ক, ধোঁয়া, আর ছুটোছুটি।

সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের হায়দার আলী ভবনে এফ-৭ বিজেআই প্রশিক্ষণ বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনায় বহু শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ আহত হন, এবং প্রাণ হারান পাইলট তৌকির ইসলাম।

তার নাম তৌকির ইসলাম সাগর। বয়স ২৭-এর কাছাকাছি। মাত্র ছয় মাস আগে বিয়ে করেছিলেন। নতুন জীবনের পথে পা রেখেছিলেন সদ্য। আর এখন, তার স্ত্রী, বাবা, মা ও ছোট বোন শুধু শুনছেন—‘সাগর আর ফিরবে না।’

রাজশাহীর উপশহরের ৩ নম্বর সেক্টরের একটি ভাড়া বাসায় এখন চলছে শোকের মাতম। পাইলট সাগরের বাবার নাম তোহরুল ইসলাম। মা সালেহা খাতুন, আর ছোট বোন বৃষ্টি—তারা কেউ কথা বলতে পারছেন না।

সোমবার দুপুরে বাড়িতে যখন খবর পৌঁছায়, তখন চারপাশ নিস্তব্ধ হয়ে যায়। বিকেল ৫টার দিকে বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে করে তাদের ঢাকায় নেওয়া হয়—সন্তানের মরদেহ গ্রহণের জন্য

চাচা মতিউর রহমান গনমাধ্যমকে জানান, ‘বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আমরা মৃত্যুর খবর পাই। আমরা ভাবতেই পারিনি এত দ্রুত এমন একটা দুঃসংবাদ আসবে। সাগর ছয় মাস আগে বিয়ে করেছিল। কিছুদিন আগেই সে রাজশাহী এসেছিল। হাসিখুশি ছেলে, স্বপ্ন ছিল বড় হওয়ার।

পাইলট তৌকিরের মেজ চাচা মতিউর রহমান জানান, ‘সাগরের বিয়েটা মাত্র ছয় মাস আগে হয়েছে। এখনও কোনো সন্তান হয়নি। সে সম্প্রতি রাজশাহীতে এসেছিল পরিবার দেখতে। আজ দুপুরে হঠাৎ তার মৃত্যুর খবর পেলাম।’

 

এনএএন টিভি