নারায়ণগঞ্জ জেলার ৩টি সংসদীয় আসনে সীমানা পূণর্বিন্যাস করায় নির্বাচন কমিশনকে অভিন্দন জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সচেতন মহল।
৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশন কর্তৃক রাজধানীর পাশ্ববর্তী জেলা নারায়ণগঞ্জের ৩টি সংসদীয় আসনের সীমানা পুনঃ নির্ধারণ করে খসড়া প্রকাশ করেছেন । নারায়ণগঞ্জ সদর থানা ও বন্দর উপজেলা, আলীরটেক ও গোগনগর ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ – ৫ আসন। যেখানে ভোটার সখ্যা প্রায় ৫ লাখ।
আসন পূণর্বিন্যাসের পর সিটি করপোরেশন এরিয়া নিয়ে গঠিত হয়েছে নারায়ণগঞ্জ -৫ আসন,যেখানে সদর থানা, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ও বন্দর থানার কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত। যেখানে ভোটার সখ্যা ৫ লাখ সতের হাজার।
সোনারগাঁও উপজেলা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ ৩ সংসদীয় আসন ছিল, যেখানে ভোটার ছিল ৩ লাখ পয়তাল্লিশ হাজার, এখন সোনারগাঁও উপজেলার সাথে বন্দর উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করায় ভোটার হবে ৫ লাখের কিছু বেশি,
ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ – ৪ আসনে ভোটার সাড়ে সাত লাখ, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ভোটের বড় একটি অংশ কমে যাবে, আলীরটেক ও গোগনগর ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত হলেও ভোটার সখ্যা অনেক কম।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন,
বেশ কয়েকটি বিষয় বিবেচনার মাধ্যমেই আসনগুলোর সীমানা পুর্ণবিন্যাস করেছেন নির্বাচন কমিশন। বিষয়গুলোর মধ্যে জনসখ্যা বা ভোটার সংখ্যা অনুপাত নির্ধারণ, প্রশাসনিক কাজের সুবিধা অর্জন, এলাকার উন্নয়ন কাজ সম্পাদনে গতি সঞ্চার সহ আরো বেশ কয়েকটি বিষয়।
নারায়ণগঞ্জের ৩টি সংসদীয় আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারনের ফলে প্রতিটি আসনে ভোটার বা জনসংখ্যার আনুপাতিক হার প্রায় সমান থাকবে, এতে করে আসনগুলোতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা জনগনের প্রকৃত সেবা করতে সহজ হবে বলে মনে করেন নারায়ণগঞ্জের সচেতন মহল।
সীমানা পুনঃনির্ধারন প্রসঙ্গে সাবেক সাংসদ আলহাজ্ব মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন বলেন, নির্বাচন কমিশন কতৃক নারায়ণগঞ্জের ৩টি আসনে সীমানা পূণর্বিন্যাস করায় আমার কোন আপত্তি নেই, আমি নির্বাচন কমিশনকে সীমানা পূণর্বিন্যাস করার জন্য স্বাগত জানাই। জেলা হেফাজতে ইসলামের সভাপতি ও জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মনির হোসাইন কাশেমী বলেছেন, নারায়ণগঞ্জের ৩টি আসনে সীমানা পূণর্বিন্যাস নির্বাচন বর্তমান কমিশনের একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত, আমি তাদের এই সিদ্ধান্তের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তাদের এই সিদ্ধান্তে নারায়ণগঞ্জের ৩ টি নির্বাচনী এলাকায় জনগনের অর্থাৎ ভোটার সমন্বয় হবে। জনপ্রতিনিধিরা জনগনকে সহজে তাদের সঠিক সেবা প্রদান করতে পারবে।
জেলা বিএনপির সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, নির্বাচন কমিশনার সোনারগাঁও উপজেলার সাথে অন্তর্ভুক্ত করনে আমাদের কোন সমস্যা নেই, ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাথে আলীরটেক ও গোগনগর ইউনিয়ন একত্রিত করার।
নির্বাচন কমিশনার সীমানা পূণর্বিন্যাস এর মাধ্যমে আমাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরন হওয়ায় আমরা আনন্দিত, আমি আমার দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনাকে অভিন্দন জানাই।
এনএএন টিভি / পারভেজ শরীফ
