বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তাদের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ‘গুরুতর’ অসুস্থ হলেও তাকে ‘বন্দি দশায়’ থাকতে হচ্ছে।
“তিনি এখনো বন্দি অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। গতকাল রাতে তিনি এত অসুস্থ হয়েছিলেন যে, চিকিৎসকরা সবাই বলছিল, আর বোধহয় বেশি সময় পাওয়া যাবে না।
“আল্লাহর কাছে হাজারো শুকরিয়া, তাকে তারা আপাতত চিকিৎসা দিয়ে সেই অবস্থা থেকে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন।”
বুধবার দুপুরে গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’য় অসুস্থ হয়ে পড়েন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। পরে এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে তাকে চিকিৎসা দেন। সন্ধ্যার পরে তার অবস্থার উন্নতি হয়।
এর আগে বিকালে খালেদার অবস্থার অবনতি হয়েছে জানিয়ে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। তবে পরে মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা গুলশানের বাসায় কয়েক ঘণ্টা অবস্থান করে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করে হাসপাতালে নেওয়ার পরিকল্পনা বদলান।
৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে লিভার, কিডনি, ডায়াবেটিস, আর্থরাইটিস ও হৃদরোগে ভুগছেন। দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড হলেও সরকারের নির্বাহী আদেশে তিনি ২০২০ সালের মার্চ থেকে শর্তসাপেক্ষে সাময়িক মুক্ত আছেন।
এই সময়ে তাকে কয়েক দফা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। সর্বশেষ গত ১৩ মার্চ স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে যান বিএনপি চেয়ারপারসন। মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তে ভর্তি হয়ে এক দিন পরই বাসায় ফেরেন।

Comments are closed.