চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মধ্যে ১৪টিতে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থীরা। বাকি দুটি আসনে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। বিএনপির বিজয়ীদের মধ্যে ১০ জনই প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। মূলত তরুণ নেতৃত্ব, ক্লিন ইমেজ ও পারিবারিক জনপ্রিয়তার কারণে ভোটের মাঠে প্রভাব ফেলেছেন বিএনপির প্রার্থীরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএনপির চট্টগ্রামের প্রার্থীরা সবাই তুলনামূলকভাবে তরুণ। তারা বিগত সময়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে যেমন রাজপথে ছিলেন একইভাবে ছিলেন এলাকাবাসীর সুখে-দুঃখে। ফলে ভোটার ও নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান জয় নিয়ে এসেছে। জেলার যে দুটি আসনে পরাজিত হয়েছে বিএনপি, সেখানে দলীয় কোন্দল ছিল প্রকট।
জানা গেছে,ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীনকে চট্টগ্রাম বিএনপির রাজনীতির বরপুত্র বলা হয় । চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগরে রয়েছে তার সমর্থক ও বিশাল কর্মী। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে রয়েছে সুদৃঢ় অবস্থান। সাবেক মন্ত্রী ও মেয়র মীর নাছির উদ্দীনের সন্তান মীর হেলাল সর্বোচ্চ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে। তার জয়ে ভূমিকা রেখেছে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্য এবং মীর হেলালের কঠোর পরিশ্রম। চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিজয়ী বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। গুম হওয়া এই নেতা তার পিতা সালাউদ্দীন কাদের চৌধুরীর মতো স্পষ্টভাষী। ফলে ভোটের মাঠে তার আগমন পিতার শূন্যস্থান পূরণ বলে মনে করছেন ভোটাররা। একইসঙ্গে ওই অঞ্চলের জন্য তার পিতার অবদান, পারিবারিক ইতিহাস ও দলীয় ঐক্য ছিল জয়ের নেপথ্যের কারণ। চট্টগ্রাম-১০ আসনে বিজয়ী সাঈদ আল নোমান বিএনপির প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের সন্তান। অক্সফোর্ড পড়ুয়া সাঈদ আল নোমানের ভোটের মাঠের বড় শক্তি ছিল পিতার সৃষ্ট বিশাল কর্মীবাহিনী। যারা দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। পাশাপাশি সাঈদ আল নোমানের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, সাবলীল বক্তব্য। চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে বিজয়ী এনামুল হক এনাম ওয়ান ইলেভেনের সময় থেকে দলীয় রাজনীতিতে বিএনপির নেতাকর্মীদের আগলে রেখেছেন অভিভাবক হয়ে। ফলে ভোটের মাঠে তার প্রতিদান দিয়েছেন কর্মীরা। এ ছাড়াও বিগত সময়ে সাধারণ মানুষ যেকোনো সময়ে অসময়ে কাছে পেয়েছেন এই প্রার্থীকে। ফলে ভোটের মাঠে পেয়েছেন বিশাল জয়।
এ ছাড়াও তুলনামূলক তরুণ ও আন্দোলন সংগ্রামে সরব থাকা নেতারা প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তারা হলেন- চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই) আসনে উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার আলমগীর, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৮ আসনে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে জসীম উদ্দিন আহমদ।
অপরদিকে, চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন চট্টগ্রাম-১১ আসনের প্রার্থী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর আগে তিনি ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে মোস্তফা কামাল পাশা চতুর্থবারের মতো এমপি হয়েছেন। এর আগে তিনি ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন। চট্টগ্রাম-১৩ আসনের প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজামও চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলেন তিনি।
