গ্রুপ পর্বে ফ্রান্স এবং নেদারল্যান্ডসের মতো দলকে টপকে সেরা দল হিসেবে শেষ ষোলোর টিকিট কেটেছিল অস্ট্রিয়া। তুরস্কের বিপক্ষে কোয়ার্টারে ওঠার লড়াইয়েও তাদেরই ফেভারিট মানা হচ্ছিল। তবে তুরস্কের প্রতিরোধের সামনে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেনি দলটি। শেষ ষোলোতেই থামল অস্ট্রিয়ার ইউরো।

লাইপজিগের রেড বুল অ্যারেনায় রাউন্ড অব সিক্সটিনের ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়েছে তুরস্ক। এই জয়ে অস্ট্রিয়াকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে তুরস্ক।
ম্যাচের স্কোরলাইন দেখে অবশ্য ম্যাচ সম্পর্কে ধারণা করা বেশ কঠিন। পুরো ম্যাচজুড়ে একক আধিপত্য দেখিয়েছে অস্ট্রিয়া। আক্রমণ থেকে শুরু করে বল দখল, সবকিছুতেই ঢের এগিয়ে ছিল অস্ট্রিয়ানরা। তবে ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেন মেরিহ দেমিরাল। এই ডিফেন্ডারের জোড়া গোলে জয় পায় অস্ট্রিয়া।
ম্যাচের প্রথম মিনিটে গোল করে অস্ট্রিয়ানদের আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরায় তুরস্ক। আর্দা গুলারের কর্নারে উড়ে আসা বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হয় অস্ট্রিয়া। ডিফেন্ডার স্টেফানের পায়ে লেগে বল প্রায় গোললাইন পেরিয়েই গিয়েছিল, একেবারে শেষ মুহূর্তে কোনোমতে আটকান গোলরক্ষক। কিন্তু বল পেয়ে যান গোলমুখেই মেরিহ দেমিরাল। জোরাল শটে গোলটি করেন আল আহলির এই ডিফেন্ডার।
পিছিয়ে যাওয়ার পরপরই আক্রমণের ঝড় বইয়ে দেয় অস্ট্রিয়া। তবে ভালো ফিনিশিংয়ের অভাবে বারবার আক্রমণ করেও ব্যর্থ হয়েছে তারা। প্রথমার্ধে সব মিলিয়ে গোলে ১০ বার শট নিয়েছে দলটি। তবে এর মধ্যে কেবল একবার শট লক্ষ্যে থেকেছে তাদের।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ম্যাচে ফেরার জন্য আরও মরিয়া হয়ে ওঠে অস্ট্রিয়া। তবে প্রথম ১০ মিনিটে নেয়া চারটি শটের মধ্যে কোনটিই গোলরক্ষক পর্যন্ত পৌঁছায়নি। উল্টো পাল্টা আক্রমণ থেকে ৫৯ মিনিটে কর্ণার পায় তুরস্ক। আর সেই কর্ণার থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করে দলটি। তবে ব্যবধান কমাতে ৭ মিনিট লেগেছে অস্ট্রিয়ার। কর্নারে সতীর্থের হেড পাস ছয় গজ বক্সে পেয়ে নিখুঁত টোকায় ব্যবধান কমিয়েছেন ফরোয়ার্ড মিখায়েল।
গোল পাওয়ার পর আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় অস্ট্রিয়া। একের পর এক আক্রমণে প্রতিপক্ষকে আরও কোণঠাসা করে রাখে তারা। কয়েকবার ভালো সুযোগও পেয়েছিল দলটি। তবে ফিনিশিংটাই ছিল বড় সমস্যা। অতিরিক্ত সময়ের শেষ মিনিটে প্রায় পেয়েই যাচ্ছিল অস্ট্রিয়া। কিন্তু বমগার্টনারের হেড দুর্দান্ত ক্ষীপ্রতায় ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক মের্ট গুনোক। হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে অস্ট্রিয়া।
