২০০৩ বিশ্বকাপ। নাইরোবিতে পুলপর্বের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হয় স্বাগতিক দল। ওই ম্যাচে শ্রীলঙ্কার দলে ছিলেন বাঘা বাঘা সব ব্যাটার; মারভান আতাপাত্তু, সনাৎ জয়াসুরিয়া, আরভিন্দ ডি সিলভা। ছিলেন মাহেলা জয়াবর্ধনে ও কুমার সাঙ্গাকারার মতো নতুনরাও। তবুও কেনিয়ার কাছে পাত্তাই পায়নি তারা। ২২ বছর বয়সী এক তরুণের ঘূর্ণির কাছে পরাস্ত হয় ছিয়ানব্বইয়ের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। সেই তরুণটি ছিলেন কলিন্স ওবুয়া।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওই ম্যাচে ২৪ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন ওবুয়া। তার লেগ স্পিনে উইকেট দিতে বাধ্য হন হাছান তিলকারত্নে, জয়াবর্ধনে, সাঙ্গাকারা, ডি সিলভা ও চামিন্দা ভাস। ব্যাট হাতে ওবুয়া করেন ১৩ রান। ৫৩ রানের জয়ে ম্যাচসেরাও হন তিনি। ওই আসরে বাংলাদেশকেও হারায় কেনিয়া, নিউজিল্যান্ড-কাণ্ডর পর খেলে সেমিফাইনাল পর্যন্ত। সেই ওবুয়া শনিবার (২৩ মার্চ) আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন।
শনিবার উগান্ডার বিপক্ষে খেলতে নামে কেনিয়া। ওই ম্যাচে ওপেন করতে নেমে শূন্য রানে আউট হন ওবুয়া। আউট হয়ে গ্যালারিতে ফিরতে ফিরতে ব্যাটটাও শেষ বারের মতো উঁচিয়ে ধরেন তিনি। তাকে দেয়া হয় গার্ড অব অনার। দুই দলের খেলোয়াড়রা তাতে অংশ নেন।
২০০১ সালে কেনিয়ার জার্সি গায়ে জড়িয়েছিলেন ব্যাটিং অলরাউন্ডার ওবুয়া। ২০০৭ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয় তার। টাইগারদের বিপক্ষে ৯টি ম্যাচ খেলেন তিনি। ৯ ম্যাচে ১৫২ রান করার পাশাপাশি একটি উইকেট নেন ৪২ বছর বয়সী ক্রিকেটার।
১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপ দিয়ে আইসিসি ইভেন্টে নিয়মিত হওয়া কেনিয়া ২০০৭ সালের পর খেলে ২০১১ সালের আসরেও। ভারত-বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী বোলিং লাইনআপের (মিচেল জনসন, শট টেইট) সামনে দাঁড়িয়ে ৯৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন ওবুয়া। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেটাই তার সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। সেটা কেনিয়ার সবশেষ বিশ্বকাপ উপস্থিতিও। এরপরই শেষ হয় দলটির সোনালি দিন। এখন তো ক্রিকেটে সেভাবে নামই শোনা যায় না কেনিয়ার।
ওবুয়া কেনিয়ার সেই সোনালি প্রজন্মের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার। এই ব্যাটিং অলরাউন্ডার কেনিয়ার প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে সুযোগ পান কাউন্টি ক্রিকেটেও। যদিও এক মৌসুমের বেশি খেলতে পারেননি।
ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে দেশের হয়ে ১৮০টি ম্যাচ খেলেছেন ওবুয়া। ১০৪ ওয়ানডেতে ২ হাজার ৪৪ রান ও ৩৫ উইকেট এবং ৭৬ টি-টোয়েন্টিতে এক হাজার ৭৯৩ রান ও ২৫ উইকেট শিকার করেছেন তিনি। টি-টোয়েন্টিতে তিনি কেনিয়ার সর্বোচ্চ রানের মালিক। সর্বোচ্চ রানের হিসাবে ওয়ানডেতে আছেন তিন নম্বরে, তার উপরে কেবল স্টিভ টিকোলো ও থমাস ওডোয়ো।

Comments are closed.