চেলসি বনাম সিলভা : চার বছরের ভালোবাসা, লড়াই আর স্মৃতির সেমিফাইনাল

চার বছরের স্মৃতি, অসংখ্য সাফল্য এবং এক আবেগঘন বিদায়—চেলসির সঙ্গে থিয়াগো সিলভার সম্পর্ক যেন সিনেমার মতো। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে নিজের শেষ ম্যাচে কান্নাভেজা চোখে বিদায় নিয়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান এই কিংবদন্তি। বলেছিলেন, ‘আমি তোমাদের অনেক ভালোবাসি। তোমাদের মিস করব।

বাই বাই!’ আর গ্যালারি জুড়ে তখন ধ্বনিত হচ্ছিল, ‘ওহ, থিয়াগো সিলভা!’

২০২৪ সালের জুলাইয়ে ইংল্যান্ড ছেড়ে ব্রাজিলিয়ান ক্লাব ফ্লুমিনেন্সে ফিরে যান সিলভা। কিন্তু সেই বিদায়ের মাত্র এক বছরের মাথায় আবার দেখা হচ্ছে প্রিয় চেলসির সঙ্গে—এবার প্রতিপক্ষ হিসেবে। ক্লাব বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে থিয়াগো সিলভার বর্তমান ক্লাব ফ্লুমিনেন্স এবং তার সাবেক ক্লাব চেলসি।

৪০ বছর বয়সেও দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সিলভার ফুটবল ক্যারিয়ার ছিল সংগ্রাম, সংকট ও সাফল্যে ভরা এক মহাকাব্য।

নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে যাওয়া এই ডিফেন্ডারকে ফুটবল ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভাবতে হয়েছিল একসময়। ২০০২ সালে পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করা সিলভা এক সময় রোমার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, পরে পোর্তোতে গিয়ে জায়গা পাননি। ডায়নামো মস্কোয় যোগ দেওয়ার পর তার জীবনে নেমে আসে এক ভয়াবহতা—টিউবারকুলোসিসে আক্রান্ত হয়ে ছয় মাস হাসপাতালে থাকতে হয়।

ডাক্তারদের মতে, ‘দুই সপ্তাহ দেরি হলে হয়তো প্রাণটাই হারাতে হতো! কিন্তু হাল ছাড়েননি সিলভা।

২০১২ সালে পিএসজিতে যোগ দিয়ে হন এক বিস্ময়কর অধিনায়ক। ক্লাবটির হয়ে আট বছরে ২৩টি ট্রফি জেতেন। ২০২০ সালে পিএসজির হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল খেলেন। শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার পর সেই বছরই যোগ দেন চেলসিতে। চেলসির হয়ে জিতেছেন চ্যাম্পিয়নস লিগ, উয়েফা সুপার কাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপ। তার পিএসজি এবং চেলসি অধ্যায় ছিল সাফল্য ও ভালোবাসায় ভরপুর।

২০২৪ সালে চেলসি থেকে বিদায় নিয়ে ফিরে যান ফ্লুমিনেন্সে। আর ফিরে গিয়েই নিজের জাত চেনান পুরনো দলে। চলতি ক্লাব বিশ্বকাপে দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে আল হিলালের বিপক্ষে জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। মাঠে ও মাঠের বাইরে থিয়াগো সিলভা এখনো ফ্লুমিনেন্সের ‘দানব’—যে নাম তিনি পেয়েছিলেন তার প্রথম অধ্যায়ে।

 

 

এনএএন টিভি

Share this news as a Photo Card