প্যারিসের ডেপুটি মেয়র পিয়ের রাবাদান বলেছেন, কাতার বিশ্বকাপের খেলা দেখাতে এবার কোনো বড় স্ক্রিন বসানো হবে না৷
বিশ্বকাপের অবকাঠামো তৈরিতে নিয়োজিত অভিবাসী শ্রমিকদের নিপীড়নের অভিযোগ এর একটা কারণ বলে জানা গেছে৷
অবশ্য আবহাওয়াও আরেকটি কারণ বলে জানান তিনি৷
কাতারে প্রচণ্ড গরমের কারণে প্রথমবারের মতো নভেম্বর-ডিসেম্বরে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে৷ এই সময়টা সাধারণত ইউরোপে শীত আসার সময়৷ সে কারণে আবহাওয়াটা ঘরের বাইরে খেলা দেখার উপযুক্ত নয়৷
বার্তা সংস্থা এএফপিকে ডেপুটি মেয়র বলেন, বিভিন্ন কারণে বড় পর্দা স্থাপনের কোনো প্রশ্নই আসেনি। এর মধ্যে প্রথমটি হলো পরিবেশগত এবং সামাজিক- উভয় দিক বিবেচনা করে যে পরিস্থিতিতে এই বিশ্বকাপের আয়োজন করা হয়েছে৷ আর দ্বিতীয় কারণ হলো বিশ্বকাপটি এবার ডিসেম্বরে হচ্ছে৷
এর আগে ফ্রান্সের আরও কয়েকটি শহর- স্ট্রাসবুর্গ, লিল, রাঁস, মার্সেই, বর্দু ও নঁসি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ফ্রান্সের পত্রিকা ল্য মোঁদ জানিয়েছে৷
স্ট্রাসবুর্গের মেয়র যান বাসেগিয়ান বলেন, অভিবাসী শ্রমিকদের নিপীড়ন ও শোষণের বিষয়ে বেসরকারি সংস্থাগুলোর অনেক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা আমাদের পক্ষে অসম্ভব৷
তিনি বলেন, দাবানল, খরা ও অন্যান্য দুর্যোগের কারণে জলবায়ু পরিবর্তন যখন একটি দৃশ্যমান বাস্তবতা তখন মরুভূমিতে ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করা সাধারণ জ্ঞানকে অস্বীকার করে এবং এটি একটি পরিবেশগত বিপর্যয়ের সমান৷
এর আগে কাতারে মানবাধিকার ভঙ্গের প্রতিবাদে বিশ্বকাপে জার্সির রং হালকা করার সিদ্ধান্ত নেয় ডেনমার্ক৷ তাদের ফুটবলাররা কালো জার্সিও পরবেন বলে জানা গেছে৷
ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, কাতার যেন মৃত শ্রমিকদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেয়৷ যারা আহত হয়েছে, তাদেরও যেন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়৷
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচও ফিফার কাছে আবেদন জানিয়ে বলেছে, তারা যেন কাতারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে৷
