ইসলামাবাদের দৃষ্টিনন্দন রেলস্টেশনটি এখনো চালু হয়নি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুনজর দাবী

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদে দৃষ্টিনন্দন রেল স্টেশনটি দীর্ঘকালেও চালু না হওয়ায় হতাশ যাত্রী সাধারণ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
রেল ভ্রমণ আরামদায়ক। কিন্তু এটির সাথে যুক্ত হতে পারেননি পাঁচ ইউনিয়নের যাত্রীরা। পার্শ্ববর্তী রামু-চকরিয়া রেলস্টেশনটিতে টিকেট বিক্রি,যাত্রী উঠানামা করতে পারলেও ইসলামাবাদের সেই স্টেশনটি এখনো চালু হয়নি। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও রেলে চড়া সম্ভব হচ্ছেনা বৃহৎ এলাকার নারী পুরুষদের। স্টেশনে টিকিট বিক্রিতো দূরের কথা, রেল দাঁড়ানোর কোন ব্যবস্থা সৃষ্টি হয়নি বলে জানালেন স্টেশনের দায়িত্বরত এক ব্যাক্তি।

যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে যদি নবনির্মিত দৃষ্টিনন্দন রেল স্টেশনটিতে টিকেট বিক্রিসহ যাত্রী ওঠা নামার সুব্যবস্থা হয় তাহলেই এখানকার যাত্রীরা অল্পসময়ে,ভােগান্তি ছাড়া প্রয়োজনীয় কাজকর্মে চট্টগ্রাম-ঢাকায় যেতে পারতো। কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রেলসড়ক স্বপ্ন নয় এখন বাস্তবে। রেল চালু হওয়ায় পর্যটকসহ যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর হয়েছে। এতে কক্সবাজারের পর্যটনও সামগ্রিক অর্থনীতি তে আসল বৈপ্লবিক পরিবর্তন। যাত্রীরা জানান, চট্টগ্রাম থেকে ঈদগাঁও এলাকায় রেলে আসলে রামু বা ডুলাহাজারা স্টেশনে নামতে হয়। সেখানে থেকে পরিবহন যোগে নিজ গন্তব্যস্থলে আসতে হয়। যাতে দ্বিগুন অর্থসহ সময়ও ব্যয় হয়। ভোগান্তি তো কাটছেনা। ইসলামাবাদের সেই রেল স্টেশন চালু হলেই অর্থ সাশ্রয় আর ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবে ঈদগাঁওবাসী।

ঈদগাঁও যুব ঐক্য পরিবারের সভাপতি রেহেনা আকতার কাজল জানান, চকরিয়া-রামু উপজেলার মানুষ রেলস্টেশন থেকে উঠানামা সহ টিকেট নিতে পারছে। অথচ ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ স্টেশনটি এখনো চালু হয়নি। যাত্রীদের দুর্ভোগ লাগবে অতিসত্বর রেল স্টেশনটি চালুকরণের দাবি।
কক্সবাজার সরকারী কলেজ প্রভাষক জাহাঙ্গীর আলম জানান, রেলের সুবিধা ঈদগাঁও উপজেলাবাসী পাচ্ছেনা। ইসলামাবাদের নান্দনিক স্টেশন দ্রুত চালু করে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করার দাবী।

সূত্র মতে,চট্টগ্রামের কাপ্তাই রাস্তার মাথাস্থ জানআলী হাট স্টেশন পয়েন্টে এক নোটিশে পটিয়া,দোহাজারী,সাতকানিয়া,চকরিয়া, রামু ডুলাহাজারা ও কক্সবাজার রেল স্টেশনের নাম উল্লেখ থাকলেও ইসলামাবাদ রেল স্টেশনের কোন নাম নেই। এই বিষয়ে জান আলী হাট রেল স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার (মহিলা) কাছ থেকে জানতে চাইলে তিনি, ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) এর সাথে আলোচনা বা আবেদনে কোন একটা সুরহা মিলতে পারে বলেও জানালেন।

উল্লেখ্য যে, ঢাকা কক্সবাজার এবং কক্সবাজার ঢাকা উভয় আপ ও ডাউন ট্রেনকে ঈদগাঁও ইসলামাবাদ (আইএসবি) স্টেশন থামিয়ে যাত্রী লোড আনলোডের যথাযথ ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। জনস্বার্থে ৩০ জুন রেজিস্টাড ডাকযোগে এ আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিষ্টার নুরুল আজিম। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও মহাপরিচালক, বাংলাদেশ রেলওয়ে চট্টগ্রামের মহাব্যবস্থাপক (পূর্ব), চট্টগ্রাম বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার ও চীফ অপারেটিং সুপারিন্টেন্ডেন্ট (পূর্ব) এবং দোহাজারী- কক্সবাজার রেল ওয়ে প্রকল্পের পরিচালকের নিকট নোটিশটি প্রেরণ করা হয়েছিল।

এনএএন টিভি / এম আবু হেনা সাগর