গ্রামীন জনপদ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে মাছ ধরার বিশেষ কৌশল “চাঁই”

একসময়ে গ্রামীণ জনপদে বষার্কাল এলে মাছ ধরার ধুম পড়তো। বর্ষায় ভারী বষর্ণ উপেক্ষা করে গ্রামের কৃষক থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ মাছ ধরতে চাঁই নিয়ে ছুটতেন। জমির আইল, ছরা, ঝণার্ অথবা ডোবার কোল ঘেঁষে বসিয়ে দিতেন গ্রামীণ জনপদের অন্যতম লোকজ উপকরণ মাছ ধরার ‘চাঁই’। কিন্তু বতর্মান সময়ে কৃষিজমি ও খাল, ডোবা, পুকুর ভরাট ও আধুনিকতার প্রচলনে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ জনপদের ইতিহাস ঐতিহ্যের নিদশর্ন মাছ ধরার বিশেষ কৌশল ‘চাঁই’।

জানা যায়, ঈদগাঁও উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় গ্রামে মাছ ধরার অন্যতম উপকরণ ছিল ‘চাঁই’। বষার্কালে গ্রামবাংলার কৃষক থেকে শুরু করে অধিকাংশ মানুষরা মাছ ধরতে চাঁই নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন। তারা পানি চলাচলের মুখে বিশেষ কৌশলে ’চাঁই’ বসিয়ে দিতেন। বসানোর কয়েক ঘণ্টা পর পুনরায় এসে ‘চাঁই’ তুলতেই দেখা মিলত পুঁটি, টেংরা, টাকি ও কইসহ হরেক রকমের সুস্বাদু মাছ। বতর্মান সময়ে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর, ডোবা, জমি ভরাটের ফলে সংকুচিত হচ্ছে মাছ ধরার সুযোগ। ফলে দিনে দিনে যেন হারিয়ে যাচ্ছে মাছ ধরার ‘চাঁই’।

স্থানীয় যুবক পেঠান ও তাহের জানান, ঈদগাঁও বাঁশঘাটা সড়কসহ হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দুয়েকজন ব্যবসায়ী বাঁশ,বেতের তৈরি বিভিন্ন উপকরণের পাশাপাশি দু’একটা ‘চাঁই’ বিক্রির জন্য রাখলেও ক্রেতাদের তেমন আগ্রহ নেই। পরিলক্ষিত হয়নি।

এলাকার বয়োবৃদ্ধ আহমদ হোসন জানান, পূর্বেকার দিনে বষার্ মৌসুমে গ্রামে গ্রামে মাছ ধরার উৎসবে মেতে উঠতো লোকজন। পানি চলাচলের মুখে চাঁই বসিয়ে প্রতিদিন তাজা মাছ ধরা হতো। কিন্তু বতর্মানে খাল-বিলে পানি থাকলেও পযার্প্ত মাছ না থাকায় ধীরে ধীরে কমছে চাঁই-এর ব্যবহার। অন্যদিকে শিল্পায়নের প্রভাব ও কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে বিলুপ্তির পথে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের নিদশর্ন চাঁই।

এনএএন টিভি / এম আবু হেনা সাগর