জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্রী ফাইরুজ সাদাফ ওরফে অবন্তিকার (২৪) আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। এতে তাঁর সহপাঠী রায়হান সিদ্দিকীকে (আম্মান) অভিযুক্ত করা হলেও অব্যাহিত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামকে।
গত বছরের ১৫ মার্চ ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে কুমিল্লা নগরের বাসায় আত্মহত্যা করেন অবন্তিকা। এ ঘটনায় তাঁর মা তাহমিনা বেগম (শবনম) আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। প্রায় দেড় বছর পর কুমিল্লার আদালতে গতকাল রোববার অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।
দ্বীন ইসলামকে মামলা থেকে অব্যাহিত দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অবন্তিকার মা তাহমিনা বেগম। তিনি বলেন, ‘অবন্তিকা মৃত্যুর আগে দেওয়া ফেসবুক পোস্টে দ্বীন ইসলামকে অভিযুক্ত করে গেছে। এর চেয়ে বড় সাক্ষী আর কী হতে পারে? তাহলে দ্বীন ইসলাম কীভাবে বাদ পড়ল?’
এ বিষয়ে আজ সোমবার সকালে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ও কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল দুপুরে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। তদন্তে অভিযোগের প্রমাণিত না হওয়ায় সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামকে অব্যাহিত দেওয়া হয়েছে।
গত বছরের ১৫ মার্চ রাত ১০টার দিকে কুমিল্লা নগরের বাগিচাগাঁও ফায়ার সার্ভিস–সংলগ্ন বাসায় ফ্যানের সঙ্গে অবন্তিকার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর আগে ফেসবুক পোস্টে আত্মহত্যার জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম ও সহপাঠী রায়হান আম্মান সিদ্দিকীকে দায়ী করেন তিনি। তাঁদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও উৎপীড়নের নানান অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় ১৬ মার্চ রাতে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে তাহমিনা বেগম মামলা করেন। এতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম ও শিক্ষার্থী রায়হান সিদ্দিকীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়। ঘটনার পর ওই দুজন গ্রেপ্তার হন। পরে তাঁরা জামিনে মুক্ত হন।
