মাত্র এক আনা ওজনের স্বর্ণের কানের দুলের জন্য সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ফাতেমা খাতুন নামে
পাঁচ বছর বয়সীর এক শিশুকে হত্যার পর মাটিচাপা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় ঘাতক আসামি নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পরে সে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে পুলিশের কাছে এ তথ্য জানিয়েছেন।
ঘাতক নজরুল ইসলাম শাহজাদপুর উপজেলার গালা ইউনিয়নের মার্জান গ্রামের আবেদ আলীর ছেলে।
হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু ফাতেমা খাতুন একই গ্রামের সোবাহান আলীর মেয়ে।
শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম মৃধা জানান,
৩১ জুলাই সকালে ঘাতক নজরুল ইসলাম আখ কিনে দেবার কথা বলে শিশু ফাতেমাকে নিয়ে যায়।
দেড় ঘণ্টা পর শরীরের কাপড় ভেজা অবস্থায় বাড়িতে এসে নজরুল ফাতেমার সন্ধান করে এবং বলে ফাতেমা তার সঙ্গে যায়নি।
পরে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি ও মাইকিং করেও ফাতেমার সন্ধান পায়নি।
২ আগস্ট দুপুরে একই গ্রামের সরদারের স্ত্রী ডলি বেগম ফাতেমার বাড়িতে গিয়ে জানায়, শিয়াল ক্ষেতের ভিতর দিয়ে একটি পা নিয়ে যাচ্ছে।
ফাতেমার পরিবার পুলিশকে এ ঘটনা জানায়।
পুলিশ ওই দিন সন্ধ্যায় মার্জান গ্রামের একটি ঘাসের ক্ষেত থেকে ফাতেমার অর্ধগলিত,
বাম পা কাটা, হাড়-মাংস ও দুই হাত দুই পাশে ছড়ানো ফাতেমার মৃতদেহ উদ্ধার করে।
বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
এ ঘটনায় ৩ আগস্ট শিশুটির মা মোছা. নুরজাহান বেগম বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি আমলে নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে শাহজাদপুর উপজেলার ইসলামপুর ডায়া মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে নজরুলকে গ্রেফতার করা হয়।
আসামির স্বীকারোক্তির বরাত তিনি আরও দিয়ে জানান, আটক নজরুল ঢাকায় রিকশা চালাতেন।
৪-৫ বছর আগে মামলার বাদীর বাড়ির পাশে জমি কিনে বসবাস শুরু করেন। ১৫ দিন আগে ঢাকা থেকে বাড়ি আসেন।
কিন্তু কোন পেশা না থাকায় সে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে।
তখন নজরুল ফাতেমার কানে স্বর্ণের দুল দেখে তা নেওয়ার পরিকল্পনা করে।
সে পরিকল্পনা অনুযায়ী শিশু ফাতেমাকে আখ কিনে দেওয়ার কথা বলে নিয়ে ঘাস ক্ষেতে যায়।
ভয় দেখিয়ে তার কানের দুল খুলে নেয়। সে সময় শিশু ফাতেমা চিৎকার দিলে সে গলা টিপে হত্যা করে লাশ মাটি চাপা দিয়ে বাসায় চলে আসে।
তিনি জানান, ঘাতক নজরুলকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, শিশুটির মা বলেন, ফাতেমা পরিবারের তৃতীয় এবং একমাত্র কন্যা সন্তান।
তার বাবা সোবাহান শেখ ঢাকায় রিকশা চালায় ও আমি মানুষের বাড়িতে কাজ করে খাই।
পরিবারের সবার আদরের মধ্যমনি ছিল ফাতেমা।
একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে পরিবারের সবাই দিশেহারা।
তিনি মেয়ের হত্যাকারীর দ্রুত বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে দাবি জানান।
