কালের বিবর্তনে স্মৃতিঘেরা মাটির ব্যাংক ঈদগাঁও থেকে বিলুপ্তির পথে….

সঞ্চয়ী মনোভাবে পূর্বেকার দিনে পিতা-মাতারা সন্তানদের মাটির ব্যাংক কিনে দিতেন। বৈশাখী মেলা কিংবা হাটবাজার থেকে রংবেরঙের মাটির ব্যাংক আনতো। সেসব ব্যাংকে নতুন টাকা ও পয়সা ফেলার আনন্দ ছিল প্রচুর। সেই ব্যাংক ভরে গেলে তা ভেঙে পয়সা গোনা ছিল যেন এক অন্যরকম উৎসব। কালের পরিক্রমা আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় কত কিছু বদলাল। এখন ছেলেমেয়েদের কাছে মাটির ব্যাংকের কোন মূল্যই নেই। টাকা জমানোর রীতিও হারিয়ে যেতে বসেছে।

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার আহমদ হোসনসহ কজন বয়োবৃদ্ধরা জানান, আগে গ্রামে বৈশাখী, নবান্নের মেলাসহ যেকোন মেলায় হরেক রকম মাটির জিনিসের মধ্যে মাটির ব্যাংক ছিল অন্যতম। রংবেরঙের মাটির ব্যাংক নজর কাটতো সকলের। যেটিতে পিতাসহ আত্বীয় স্বজনদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা জমানো হত স্বাদের সে মাটির ব্যাংকে।

দিনমজুর মোহাম্মদ আলম, আবদু গনিরা দৈনিক সকালের সময়কে জানান, বাল্যকালে মাটির ব্যাংকে টাকা জমানোর স্মৃতি এখনো মনে পড়ে। এই ব্যাংকের নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মিষ্টি- মধুর কতইনা স্মৃতি। এছাড়া দুই ঈদে সালামির টাকা মাটির ব্যাংকে জমা রাখতাম। অন্যরকম এক আনন্দ।

সরকারী নিবন্ধিত সামাজিক প্লাটফর্ম ঈদগাঁও যুব ঐক্য পরিবারের সভাপতি রেহেনা আকতার কাজল বলেন, মৃৎশিল্প গ্রামবাংলার ঐতিহ্য। একসময় মাটির তৈরি জিনিসের ব্যাপক ব্যবহার এবং চাহিদা ছিল। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে মাটির জিনিসপত্র। বর্তমান যুগে নারী পুরুষরা বিভিন্ন নামীদামী ব্যাংকে টাকা নিরাপদে রাখতে জমা করেন।

এনএএন টিভি / এম আবু হেনা সাগর

Share this news as a Photo Card