চুয়াডাঙ্গা দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা বাজারের শহিদুল ইসলাম দোকান নির্মাণের জন্য মাটি খোঁড়ার সময় পেলেন ব্রিটিশ আমলের গুপ্তধন রুপার মুদ্রা।
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে মাটির নিচ থেকে এ গুপ্তধন পাওয়া যায়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা গ্রামের দিলু মণ্ডলের ছেলে শহিদুল ইসলাম বাজারের সাইকেল হাটসংলগ্ন জমিতে দোকান নির্মাণের জন্য শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে ড্রেজার বা ভেকু দিয়ে মাটি কাটছিলো। মাটি কাটার (খুঁড়ছিল) এক পর্যায়ে সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে মাটির নিচ থেকে হঠাৎ মাটির হাঁড়ি জাতীয় কিছু উঠে আসে। তার ভিতর পাওয়া যায় গুপ্তধন (১ হাজার ৮ শ ৭৬ টি রুপার মুদ্রা)।
রুপার মূদ্রাগুলো ১৮৬৫ থেকে শুরু করে ১৯০২, ১৯০৮ ও ১৯১০ সাল অর্থাৎ ব্রিটিশ আমলের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির।
গুপ্তধনের খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে কৌতূহলী মানুষ এই মুদ্রা দেখতে ভিড় জমায়। পরে দামুড়হুদা থানার কার্পাসডাঙ্গা ফাঁড়ি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কলস ও কয়েনগুলো জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ১ হাজার ৮ শ ৭৬ টি রুপার মুদ্রা ওজন করলে দেখা যায় সেগুলোর মোট ওজন দাঁড়ায় প্রায় ২১ কেজি ৯০০ গ্রাম।
শহিদুল ইসলামের ছেলে মেহিদি হাসান মানিক বলেন, আমরা জমিতে দোকানঘর নির্মাণের জন্য কাজ করছিলাম। হঠাৎ ড্রেজারের সাথে একটি মাটির কলসি উঠে আসে। ভেতরে কয়েন দেখে আমরা কিছুটা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেই।
স্থানীয় স্বর্ণকারেরা বলেছেন, রুপা হিসেবে এর এক একটি মুদ্রার দাম ১৫ শ থেকে ১৮ শ টাকা। এ হিসেবে মুদ্রারগুলোর রুপার দাম ৩৭/৩৮ লাখ টাকা। এটি হয়তো প্রচলিত মূল্য। কিন্তু ঐতিহাসিক দিক বিবেচনা করলে উদ্ধার হওয়া প্রাচীন মুদ্রার বর্তমান মূল্য আরো কয়েক গুণ বেশি।
দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ুন কবির জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পরই আমরা পুলিশ পাঠাই। স্থানীয়দের সামনে কলস খোলা হয় এবং কয়েনগুলোর ওজন করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো ব্রিটিশ শাসনামলের ভারতীয় রুপি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এনএএন টিভি / শামসুজ্জোহা পলাশ

One Reply to “চুয়াডাঙ্গায় দোকান নির্মাণের জন্য মাটি খুঁড়ে মিললো গুপ্তধন”
Comments are closed.