দুর্নীতি ধামাচাপা দিতেই সাতক্ষীরা সিটি কলেজে ষড়যন্ত্রের জাল

সাতক্ষীরা সিটি কলেজে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসার পরও কতিপয় সুবিধাভোগী শিক্ষক ও কর্মচারী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মো. মনিরুজ্জামান মনিকে জড়িয়ে করা অপপ্রচারকে এই ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে কলেজটি অধ্যক্ষবিহীন অবস্থায় পরিচালিত হয়। এই সময়ে কলেজের সকল শিক্ষক, গভর্ণিং বডি এবং অর্থ কমিটির সমন্বয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। গভর্ণিং বডির সভাপতি অধ্যাপক মো. নওশাদ আলম বারবার সাবেক অধ্যক্ষ শিহাব উদ্দীনকে শোকজ দিলেও তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা (মামলা নং: ০৮৬) দায়ের করেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান (অতিরিক্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক) আব্দুস সামাদ কলেজ পরিদর্শনে এসে শিহাব উদ্দীনের বিরুদ্ধে চরম স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রায় কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির সত্যতা পান। তারই প্রেক্ষিতে গত ৯ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক মো. আব্দুল হাই সিদ্দিক সরকার স্বাক্ষরিত ০৭/খু-২৫৯) জাতীয় বিঃ/ কঃপঃ/ কোড-০২০৩/৫১৯৪ স্মারকের মাধ্যমে গভর্ণিং বডিকে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু শিহাব উদ্দীন উচ্চ আদালতে আরেকটি মামলা (মামলা নং: ৫১৭৫) করে পুরো প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করেন। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান মনির নেতৃত্বে কলেজের একাডেমিক কার্যক্রমে গতি ফিরে আসে। ঠিক এই সময়েই কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিমূলক প্রচার চালানো শুরু হয়, যার নেতৃত্বে আছেন শিহাব উদ্দীন ও তার সমর্থকগোষ্ঠী। আশাশুনি থানা সূত্রে জানা যায়, ‘৫ আগস্ট প্রতাপনগরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার বিজয় মিছিলে গুলি করে তিনজনকে হত্যার মামলায় গত ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে ড. এম শিহাব উদ্দিনকেmগ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, কলেজের এক অফিস সহকারী (চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী) মতিয়ার রহমান অফিসের গোপন নথিপত্র শিহাব উদ্দীনকে সরবরাহ করছেন। এমনকি তিনি বিভিন্ন মামলা সংক্রান্ত নথি নিজে হাতে ব্যাংক ও অন্যান্য দপ্তরে পৌঁছে দিচ্ছেন, ফলে কলেজের আর্থিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে। এতে শিক্ষক ও কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন-ভাতা প্রদানও ব্যাহত হচ্ছে। ঘটনার ধারাবাহিকতায় গত ১২ মে, কলেজ ছুটির পরেও মতিয়ার রহমান অফিসে অবস্থান করায় অধ্যক্ষ তাকে ছুটির নিয়ম মানতে নির্দেশ দেন। এসময় মতিয়ার রহমান উল্টো অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে কলেজ প্রশাসন তাকে অফিস থেকে বের করে দেন। এই ঘটনা আড়াল করতে ও অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান মনিকে সামাজিকভাবে হেয় করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফেসবুকে একটি মনগড়া পোস্ট ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যেখানে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তোলা হয়। সচেতনমহলের মতে, এটি পুরনো দুর্নীতির চক্রের একটি কৌশলী চাল ছাড়া কিছুই নয়। কলেজের সাধারণ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারী এবং অভিভাবকদের একটাই দাবি— শিহাব উদ্দীনের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে কলেজের স্বচ্ছ প্রশাসনিক পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।

এনএএন টিভি / আব্দুর রশিদ

Share this news as a Photo Card