রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ মানুষের বিশ্বাস ও আস্থার জায়গা। জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর দেশের মানুষের একটি নির্ভরতার জায়গা তৈরী হয়েছে যার নাম অন্তবর্তীকালীন সরকার।
এ সরকারের বিগত প্রায় এক বছরে প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রনালয়ে এবং বিভাগে সংস্কার এনেছেন, পরিবর্তন করেছেন ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর আমলা থেকে শুরু করে বিভিন্ন পদে থাকা দূণীতিবাজদের। অথচ রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়সহ বিভিন্ন জেলার আজো বহাল তবিয়তে রয়েছে ইমারত পরিদর্শক থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থরা। তেমনি একজন রাজউক এর ইমারত পরিদর্শক তারিফুর রহমান। এমন কোনো অপরাধ নেই যা করেননি। দুর্নীতির মাধ্যমে গড়ে তুলেছে অর্থ-সম্পদের পাহাড়। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নামে-বেনামে একাধিক ফ্ল্যাট ও প্লট রয়েছে তার। পার্টনারশীপে বিপুল পরিমান টাকা বিনিয়োগ করে ব্যবসায়ও করছেন এই তারিফুর রহমান। দেশের বাইরেও প্রচুর টাকা পাচার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়- নারী, জুয়া ও মদের পিছনেই প্রতি মাসে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা খরচ করে বলে বিশ্বস্থ সূত্রে জানা গেছে। সম্প্রতি এক ডান্সার মেয়ের সাথে অনৈতিক কাজ করতে গিয়ে ধরা পড়ে ১৫ লাখ টাকা জরিমানা দিয়েছে বলেও জানা গেছে। তারিফুরের স্ত্রী রাজধানীর একটি প্রাইভেট ব্যাংকে চাকরি করেন। তার স্ত্রীর অগোচরে প্রতিনিয়ত রাজধানীর বিভিন্ন হোটেল ও বারে নারীদের সঙ্গে ফূর্তি করে এবং জুয়া খেলে। এসবের টাকা আসে তার রাজউকের দুর্নীতির মাধ্যমে। স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের আমলে নিজেকে আওয়ামী লীগের লোক বলে সকল সুযোগ-সুবিধা নিয়েছে। গত বছরের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পক্ষে জোরালো অবস্থান ছিল তার। সূত্রে জানা যায়,, রামপুরা ওয়াপদা রোডের ১৫৮/৪ প্লটের উপর মাজিদ ট্রেস নামে নির্মিত ইনোসিস নামক ডেভেলপার কোম্পানীর ৯ তলায় লিফট এর ডান পাশে ১৮০০ স্কয়ার ফুটের একটি ফ্ল্যাট ১ কোটি ২০ লাখ টাকায় ক্রয় করে তারিফুর রহমান এব সেখানেই বসবাস করছেন। সম্প্রতি ফ্ল্যাটটিতে ৩০ লাখ টাকার ইন্টেরিয়রের কাজ করিয়েছেন। ডেভেলপার কোম্পানির তথ্যমতে- সব লেনদেন রাজউক এর ইমারত পরিদর্শক তারিফুর রহমান নিজ হাতে করছেন। এছাড়া রামপুরা ওমর আলী লেনে ১২/৪৭৮ এর ৪ তলায় ৯৫০ স্কয়ার ফুটের একটি ফ্ল্যাট ও এর পাশেই এগ্জিউ ডেভেলপার এর ৩ তলায় ১৪০০ স্কয়ার ফুটের আরো একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন তারিফুর রহমান। ওই দুটি প্ল্যাটের দামও প্রায় ২ কোটি টাকা। শুধু তাই নয়- আফতাবনগরে তার রয়েছে দুটি প্লট, একটি ২.৫ কাঠার প্লট এবং আরেকটি ৩ কাঠার প্লট।

সূত্র মতে, তারিফুর রহমান পল্টনের একটি আবাসিক হোটেলে নিয়মিত জুয়া খেলে, মদ পান করে এবং বিভিন্ন নারী নিয়ে প্রতিনিয়তেই ফূর্তি করেন। এছাড়া প্রায় রাতেই নাচ-গান-মদ পান করেন হোটেল ফার্স, হোটেল ৭১, হোটেল সোনারগাঁও, বাংলামোটরের চালেট নামক বারসহ বনানীর সেরিনা লকি বারে নিয়মিত যাতায়াত তার। সেখানে তার নারী বান্ধবীর অভাব নেই। দুদকে তার নামে আছে একাধিক অভিযোগ। বর্তমানে জুয়ার আসর বসান রামপুরা হাজীপাড়ার একটি ভবনের ৩ তলায়। সেখানে তার নিজস্ব ট্রাভেল এজেন্সির অফিসও রয়েছে।
উল্লেখ্য, শুধুমাত্র উপরের এসব অভিযোগই নয়, দুর্নীতিবাজ এই তারিফুরের বিরুদ্ধে চলছে চিরুনি অভিযান। যত দ্রুত সম্ভব ফ্যাসিস্ট এর দোসর এবং দূনীতিবাজকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সুশীল সমাজসহ জুলাই-আগস্ট আন্দোলনকারীরা।
