নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগে দুই কোটি টাকার হিসাবে গরমিল

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মকর্তা কর্মচারীদের তোপের মুখে ৮৮ লক্ষ টাকার স্বীকারোক্তি দেয় মেডিকেল অফিসার শেখ মোস্তফা আলী। কিন্তু প্রায় দুই কোটি টাকার হিসাবে গরমিল দেখা দিয়েছে।

উল্লেখ্য গত ১০ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) সিটি করপোরেশন স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মকর্তা কর্মচারী এবং স্বেচ্ছাসেবীদের তোপের মুখে হিসাব দিতে পারেনি মেডিকেল অফিসার শেখ মোস্তফা আলী এবং ই পি আই সুপার ভাইজার মোঃ হাফিজুর রহমান। এতে ক্ষুব্দ হয়ে ভুক্তভোগীরা জানান, গত ২০২১ইং সালের ৭ ফেব্রুয়ারী থেকে ২০২৩ইং সাল পর্যন্ত মোট ৭৪৫ কর্ম দিবসের বেতন ভাতা এবং বোনাস আমরা ঠিক মতো পাইনি। গত ২০২১ইং সালে ভুক্তভোগী কর্মচারীরা তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন করেছিলো এবং তৎকালীন সিটি মেয়র সেলিনা হায়াত আইভির নির্দেশে ১০ লক্ষ টাকাও পেয়েছিলো।

সারা বিশ্বে যখন মহামারী কোভিড ১৯ শুরু হয়,তখন ফ্রিতে ভেকসিন সেবা কার্যক্রম শুরু করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার প্রশাসন।তারই ধারাবাহিকতায় নাসিক কার্যালয়েও ভেকসিন দেওয়া হয়েছিলো।এতে খরচের খাত সমূহ ৯ ভাগে করা হয়।
টিকা দানকারীদের সম্মানী বাবদ,স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মানী ভাতা,ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, ভেকসিন ও লজিস্টিক পরিবহন (পোর্টার), ভেকসিন লজিস্টিক পরিবহন (সিভিল সার্জন অফিস হতে জোন), ২য় সারির সুপার ভাইজার,১ম সারির সুপার ভাইজার,স্টেশনারী,ওয়ার্ড মাইকিং।
আন্দোলন কারীদের অভিযোগ ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, ভেকসিন আনা নেওয়া এবং মাইকিং বাবদ এই ফান্ড থেকে খরচ করার কথা থাকলেও সিটি করপোরেশনের নিজস্ব গাড়ি, মাইকিং এবং ডাটা এন্ট্রির যাবতীয় কাজ করে অর্থ লোপাট করে।

এব্যপারে স্বেচ্ছাসেবীরা বলেন, টাকার কথা বললে আমাদের সাথে আলাদা আলাদা করে মিটিং করেন এবং উল্টা পাল্টা বুঝ দেন।কিন্তু সবার সাথে একসাথে বসতে চান না।ফোন কল করে আলাদা ভাবে ম্যানেজ করতে চান।

নাগরিক স্বাস্থ্য বিভাগের সমস্ত ফান্ড
সরকারি এবং বেসরকারি বিভিন্ন এনজিও আর্থিক অনুদান হিসাবে দিয়ে থাকে।এ বিষয়ে অর্থ আত্মসাৎকারী মেডিকেল অফিসার শেখ মোস্তফা আলীকে সিটি কর্পোরেশনের স্বেচ্ছাসেবী সম্পর্কে গণমাধ্যম কর্মীরা প্রশ্ন করলে বলেন,আন্দোলন কারীরা ভালো ফ্যামীলির না,আমি তাদেরকে রাস্তা থেকে তুলে এনে কাজ দিয়েছি।তাদের জন্য আমার কষ্ট লাগে।৮৮ লক্ষ টাকা সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলে বলেন,এই টাকার হিসাব আমি দিবোনা।আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগের মিডিয়া সেন্টারে টাকা আছে।টাকার কথা জিজ্ঞেস করলে একেক সময় একেক কথা বলেন মেডিকেল অফিসার শেখ মোস্তফা আলী। এ ব্যপারে সুপার ভাইজার হাফিজুর রহমানকে অনেক অপেক্ষার পর পাওয়া গেলেও তিনি বলেন,আমি কিছু বলতে পারবো না।
গতকাল ২২ সেপ্টেম্বর (রবিবার) নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকির হোসেনকে এব্যপারে জিজ্ঞেস করলে গনমাধ্যম কর্মীদের তিনি বলেন, গত ১৯ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) মেডিকেল অফিসার শেখ মোস্তফা আলী একটি লিখিত হিসাব দিয়েছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের একাউন্ট্যান্ট কে এই হিসাব খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই ব্যপারে সমস্ত তথ্য আপনারা পেয়ে যাবেন।

এনএএন টিভি / সুমন ইসলাম