পাইকগাছার দেলুটিতে ডিঙ্গী বোড়া খাল নিয়ে ইজারাদার ও এলাকাবাসি মুখোমুখি: মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অব্যাহত

খুলনার পাইকগাছার দেলুটি ইউনিয়নে ডিঙ্গীবোড়া খালের এজারা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ইজারাদার ও গ্রামের মানুষ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। যে কোন সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা করছে এলাকাবাসী।
   
এদিকে বৃহস্পতিবার দেলুটি ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা ইজাদারকে খালটি বুঝে দিলে স্থানীয়রা দারুনমল্লিক বাজারে মানববন্ধন  ও প্রতিবাদ সভা করে। এছাড়া শনিবার সন্ধ্যায় একই স্থানে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দ্বীপবেষ্টিত দেলুটি ইউনিয়নের ২২ নং পোল্ডারে ৬ কিলোমিটার লম্বা ১৫ একর ডিঙ্গি বোড়া নামে একটি খাল রয়েছে। যা বিগত ৫ বছর উন্মুক্ত ছিল। কিন্তু চলতি বছর ওই খালটি উপজেলা থেকে চাঁদখালী ইউনিয়নের গজালিয়া মৎস্য সমিতি ইজারা নেয়। আর বর্তমানে এ খালটি  ইজারা হওয়ায় ফুসে উঠেছে স্থানীয় জনসাধারণ।
এ বিষয়ে স্থানীয় তরমুজ চাষী সনৎ বৈদ্য, নারায়ন মন্ডল, তন্ময় মজুমদার, শিশির সরকার সহ একাধিক তরমুজ চাষীরা জানান  আমরা ১৫ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ এই ডিঙ্গি বোড়া খালে বর্ষার পানি সংরক্ষন করে প্রায় ৮ হাজার বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। যাহা এ বছর প্রায় ১শ কোটি টাকা বিক্রি হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। আমাদের ২২ নং পোল্ডারের চারিপাশে লবন পানি। সে কারণে সরকারী ও বে-সরকারী সংস্থা প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যায়ে খালটি খনন করে দেয়। খনন করা খালে বৃষ্টির পানি সংরক্ষন করে আমরা ধান, তরমুজ, খিরাই, তিল সহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করি। খালটি ইজারা বাতিলের জন্য আমরা পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানাই। এ বিষয দেলুটি ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল জানান, ডিঙ্গি বোড়া খালটি সরকারী ভাবে ইজারা দেয়া হয়েছে। ডিঙ্গি বোড়া খালটি ২০১৮ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনার সর্বাধিক যে উন্নয়ন প্রকল্প ডেল্টা প্লানের আওতায় ২ কোটি টাকা ব্যায়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ ও ব্লুগোল্ড খালটি খনন করে।
সে কারণে বর্ষা মৌসুমে মিষ্টি পানি সংরক্ষন করে এখানে কোটি কোটি টাকার তরমুজ, ধান সহ বিভিন্ন ফসল ফলিয়ে কৃষি বিপ্লব ঘটিয়েছে ২২ নং পোল্ডার বাসি। একটি ষড়যন্ত্রকারী মহল ডিঙ্গি বোড়া খালে লবন পানি ঢুকিয়ে এই অঞ্চলের কৃষকদের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা ব্যবহত করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।খুলনা-৬( কয়রা-পাইকগাছা) আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকট আমাদের প্রানের দাবী খালটি যেন অবমুক্ত থাকে। আর খালটি অবমুক্ত থাকলে জননেত্রী শেখ হাসিনার আগামী দিনের এগিয়ে চলার কৃষি বিপ্লবের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।
এলাকাবাসী দ্রুত সমস্যার সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্টদের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা না হলে যে কোন সময় অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
এনএএন টিভি / তৃপ্তি রঞ্জন সেন