সনাতন ধর্মালম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব সরস্বতী পূজাকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। এই উপজেলার মৃৎশিল্পীরা প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে আগের তুলনায় বর্তমানে এই পেশায় লাভ কম বলে জানিয়েছেন মৃৎশিল্পীরা।
রোববার (১১ ফেব্রুয়ারী) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার পৌর এলাকার শাপলাবাগে, সবুজবাগ সহ বিভিন্ন স্থান থেকে আগত মৃৎশিল্পীরা প্রতিমা তৈরী করছেন। বাঁশ, খড় ও কাদামাটি দিয়ে প্রতিমার অবকাঠামো তৈরি ও প্রলেপ দেওয়ার কাজ ইতিমধ্যে শেষ। পূজার শেষ মুহূর্তে রং তুলি দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হবে অবয়ব। আকার-আকৃতি ভেদে এসব প্রতিমা বিক্রি হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করবেন বলে জানিয়েছেন তারা।
জানা যায়, হিন্দু শাস্ত্র মতে বিদ্যার দেবী সরস্বতী। সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা দেবীর আশীর্বাদ লাভের আশায় প্রতিবছর পঞ্জিকা মতে মাঘ মাসের পঞ্চমী তিথিতে সরস্বতী দেবীর পূজা করে থাকেন। এই পূজা উপলক্ষে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে বাড়িতে নির্মাণ করা হয় অস্থায়ী মন্দির। এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলছে উৎসাহ উদ্দীপনা।
মৃৎশিল্পীরা জানান, প্রয়োজনীয় সকল উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় লাভ অনেকটাই কমে এসেছে এই পেশায়। তবে অতীত ঐতিহ্য এবং পেশাগত টানে এই পেশা ধরে রেখেছেন বলে জানিয়েছেন মৃৎশিল্পীরা।
প্রতিমা তৈরি করতে আসা সুদূর ঢাকার কালিয়াকৈর হনু পাল তিনি বিগত ৩৫ বছর ধরে প্রতিমা তৈরি করে আসছেন। কিন্তু এ পেশায় মৃৎ শিল্পের কাজের সাথে জরিয়ে জীবনযাত্রা চালানো মুস্কিল হয়ে পড়েছে। দ্রব্য মূল্যের উদ্ধগতিতে জিনিস পত্র দামের কারণে এ মৃৎ শিল্প কাজের সাথে কতদিন জড়িত রাখতে পারা যাবে তা নিয়ে সংশয় থেকে যায বলে জানান তিনি।
প্রতিমা তৈরির কাজে দেখতে আসা দর্শনার্থী জানান, প্রতিবছর বিদ্যার জন্য দেবীর কাছে প্রার্থনা করি। এবারও দেবীর কাছে বিদ্যা, দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করবো। এজন্য প্রতিমা তৈরি হচ্ছে শেষ সময়ে দেখতে আসছি।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও সাবেক সিলেট বিভাগীয় প্রধান স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডা; হরিপদ রায় বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও উপজেলার বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, পাড়া-মহল্লা ও বাসাবাড়িতে সরস্বতী পূজা উদযাপন হবে। আশা করছি, কোনো ধরণের বাঁধা বিপত্তিও অপ্রতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে পূজা সম্পন্ন হবে।
এনএএন টিভি / তিমির বনিক
