ভিত্তিহীন অপপ্রচার ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার হুমকি দিয়ে সংবাদ সম্মেলন

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া ও কিছু অনলাইন পোর্টালে প্রচারিত মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন নওগাঁর কুসুম্বা ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী মোঃ মেহেদী হাসান টগর ও তার স্ত্রী। আজ এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অপপ্রচারের নিন্দা জানান এবং এর পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন। একই সাথে তিনি এই অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেন।
​সংবাদ সম্মেলনে মেহেদী হাসান টগর বলেন, “সম্প্রতি একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী নারী আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন। ওই নারী তার বড় ছেলের একাধিক মাদক মামলার কথা গোপন করে আমাকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তার বড় ছেলে বর্তমানে মাদক মামলায় জেল খাটছে। এছাড়াও, ওই নারী স্বামীর মৃত্যুর পর তার ভাগিনাকে বিয়ে করে সামাজিকভাবে বহিষ্কৃত হয়েছেন। এমন বিতর্কিত একজন ব্যক্তির অভিযোগ কতটুকু বিশ্বাসযোগ্য, তা সহজেই অনুমেয়।”
​টগর আরও জানান, ওই নারী তার জামাইকে গরম পানি দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার মতো অমানবিক ঘটনার সঙ্গে জড়িত। আমি সেই ঘটনার প্রতিবাদ করায় ওই নারী ও তার ছেলেরা ক্ষিপ্ত হন। এর জের ধরেই একদিন ওই নারী আমার বাড়িতে এসে আমার স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া ও হাতাহাতিতে জড়ান। টগর আরো বলেন, “একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে আমি শুধু একজন অসহায় জামাইয়ের পক্ষে কথা বলেছিলাম, এটাই আমার অপরাধ।”
এছাড়াও কুসুম্বা ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতির বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগে আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে তিনি কুসুম্বা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সেলিম মোর্শেদ চৌধুরীর দিকে আঙুল তোলেন। টগর বলেন, “আমি বিএনপি’র একজন সামান্য কর্মী। কোনো প্রমাণ ছাড়াই সেলিম মোর্শেদ চৌধুরী আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন। আমি সকল দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেই, যেখানে সভাপতিসহ সকল শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকেন। আমার বিরুদ্ধে এমন ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলার কারণ হলো, আমি পূর্বে তার মাদকাসক্তি নিয়ে কথা বলেছিলাম। একজন মাদক বিক্রেতা নারী ও একজন মাদকাসক্ত সভাপতির অভিযোগের মধ্যে যোগসূত্র থাকাটা কি কাকতালীয়।
​টগর আরও অভিযোগ করেন, “সেলিম মোর্শেদ চৌধুরী বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সরকারি জমি দখল করে হসপিটাল মোড়ে ২০-৩০টি অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছেন, যা দলের আদর্শের পরিপন্থী। বিএনপি’র দলীয় নেতা তারেক রহমান কি সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা তৈরির কথা বলেছেন। ” তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি একজন সামান্য কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগের কারণে তার পদ চলে যায়, তাহলে সরকারি জমি দখলকারী একজন সভাপতির পদে থাকার নৈতিক অধিকার থাকে কি।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে টগর প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করার এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। তিনি আরও বলেন, তিনি এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং সত্যকে সামনে আনবেন বলে।